বিখ্যাত বাংলা রূপক কবিতা: বাংলা সাহিত্য জগতে রূপকধর্মী কবিতার (Metaphorical Poetry) গুরুত্ব অপরিসীম। বিখ্যাত কবিদের সৃষ্ট Famous Bengali metaphorical poems শুধু শব্দের সৌন্দর্য নয়, বরং গভীর ভাবনা, প্রতীকী অর্থ এবং জীবনের নানা দিককে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে। এই ধরনের Bengali metaphor poems বা Bengali rupok kobita-তে প্রতিটি লাইন লুকিয়ে রাখে একাধিক অর্থ, যা পাঠকের চিন্তাকে আরও বিস্তৃত করে তোলে।
এই ব্লগে আমরা নিয়ে এসেছি সেরা Bengali allegorical poetry, Bengali symbolic poems, এবং best metaphor poems in Bengali, যেখানে আপনি পাবেন Bengali poetry with deep meaning, Bengali philosophical poems, এবং Bengali abstract poetry-এর এক অনন্য সংগ্রহ। বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত, Bengali literary metaphor poems, Bengali classic metaphor poems, এবং modern Bengali metaphor poetry—সবকিছুর সমন্বয়ে তৈরি এই কনটেন্ট।
এখানে আপনি খুঁজে পাবেন Bengali poems with hidden meaning, Bengali symbolic literature poems, এবং একটি সমৃদ্ধ Bengali deep meaning poetry collection, যা সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পাশাপাশি, Bengali poetic metaphors examples, Bengali sahitya rupok kobita, এবং Bengali inspirational metaphor poems আপনাকে নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে।
যারা প্রেম, দুঃখ, প্রকৃতি বা জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কবিতা পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে Bengali romantic metaphor poems, Bengali sad metaphor poems, Bengali nature metaphor poems, এবং Bengali life metaphor poems। এছাড়াও, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য Bengali poem captions metaphor, Bengali poetry for Instagram metaphor, এবং Bengali short metaphor poems এই ব্লগকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
২০২৬ সালের ট্রেন্ড মাথায় রেখে তৈরি এই পোস্টে আপনি পাবেন Bengali modern poetry 2026, Bengali viral metaphor poetry, এবং প্রয়োজনীয় Bengali poetry SEO keywords—যা আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে আরও জনপ্রিয় করতে সাহায্য করবে।
সবশেষে, যারা বাংলায় খুঁজছেন—বিখ্যাত বাংলা রূপক কবিতা, বাংলা রূপক কবিতা তালিকা, রূপকধর্মী বাংলা কবিতা, বাংলা প্রতীকী কবিতা, বাংলা দার্শনিক কবিতা, এবং গভীর অর্থপূর্ণ বাংলা কবিতা, তাদের জন্য এই আর্টিকেল একটি সম্পূর্ণ গাইড। এখানে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন রূপক কবিতার উদাহরণ বাংলা, বাংলা কবিতায় রূপক অর্থ, এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক যেমন জীবনভিত্তিক রূপক কবিতা বাংলা, প্রেমের রূপক কবিতা বাংলা, দুঃখের রূপক কবিতা বাংলা, ও প্রকৃতি ভিত্তিক রূপক কবিতা বাংলা।
Table of Contents
বিখ্যাত বাংলা রূপক কবিতা l Famous Bengali Metaphorical Poems
অধৈর্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
তুমি কি ফুলের পাশে মুখ
নিয়ে যাও?
না কি, ফুল এসে তোমার মুখের
ঘ্রাণ-লোভী?
কিছু কিছু ফুল আছে ঘ্রাণহীন, যেমন করবী
তারা যায়
সভ্যতার সাময়িক পাঁশুটে হাওয়ায়
সেতুর নীচের শিশুরক্ত স্নানে।
ফুল বা মুখের ঘ্রাণ নয়, তারা শরীরের
শরীরে নিচু চোখ, দু’ চোখে হিরের মতো লোভ
আয়ুষ্কাল ভিত্তিভূমি, বাসনা
আরোপ করা হলে
আমি সেই ফুল নাম্নী মেয়েদের পাতা ছিঁড়ি দাঁতে।
এবার তোমার মুখ আনন, আমি ঘ্রাণ নেব
একান্ত বিরলে।
অকর্ষিত হিয়া – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
প্রস্তুত ছিলো প্রেম, তুমি শুধু হাত তুলে ডেকে
যজ্ঞের জোগাড় শেষে তুমি শুভ্র এলে পুরোহিত
চুম্বন সাজানো ছিলো, তুমি এসে ছোঁয়ালে অধরে
অধরের পথে ।
সমস্ত পরান জুড়ে যে-অঘ্রান ফলভারে নত
তুমি তার ঘ্রাণ পেয়ে এলে যেন শ্যামল কিষাণ,
এলে মাটির মরমে রেখে মনোরম মৌন ক্ষত ।
তৃষ্ণার তিমিরে জেগে ভালোবাসা বুনেছি একা
আজ তার ভাঙা-স্নান দিনগুলো মুছে যায় দ্রুত
নীড়ের নিবিড় কোলে ফিরে আসে স্বপ্নময় পাখি ।
লাবণ্যতার মতো চোখে নামে সবুজাভ স্নেহ,
কিসের আড়ালে ছিলো এতোদিন এই ব্যথা-সুখ
এই মুগ্ধ মৌন বোধ, ভালোবাসা অনাবাদী দেহ?
কিসের আড়ালে ছিলো,
কিসের আড়ালে ছিলো এই তনু, অকর্ষিত হিয়া।
আঁধারে প্রস্তুত ছিলো অপরূপ স্নিগ্ধ-অন্ধ প্রেম
শ্যামল কিষাণ তুমি খুলে দিলে দেহের শিকল
হৃদয়ের রাত ছিঁড়ে এলো রোদ, ভালোবাসা ।
ফসলের হেম ।
অক্ষম প্রেমিক – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি—
পারিনি এতটুকুও করতে তোমার জন্য,
তাই এখনও কাপুরুষের মত ক্ষমাপ্রার্থী।
যখন তোমার স্বপ্নের ঘরগুলো
নির্মম করে ভাঙ্গছিল হিংস্র প্রেতাত্মারা,
যখন তোমার নীল পাখীগুলো
লুটিয়ে পড়ছিল ব্যাধের তীক্ষ্ণ তীরে
পারিনি একটুও সাহস করে বাধা দিতে,
অথচ আমি তোমায় ভালবাসি।
অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করতেও ভয় হয়
তাই তো অভিশাপ চাচ্ছি না
আপন কর্তব্যের অক্ষমতায়।
আমি কেমন স্বার্থপর!
যখন তুমি বেরিয়ে এলে
মেঘের কবল থেকে,
ঠিক তখনই তোমায় নিবিড় করে বাঁধতে
নির্লজ্জের মত হাত বাড়ালাম
তুমি ফিরিয়ে দাওনি
গভীরভাবে বুকে টেনে নিয়েছ—
হয়ত এই ভেবে ;
আমি তোমার এক কাপুরুষ প্রেমিক।
অঙ্গের বাঁধনে বাঁধাপড়া আমার প্রাণ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অঙ্গের বাঁধনে বাঁধাপড়া আমার প্রাণ
আকস্মিক চেতনার নিবিড়তায়
চঞ্চল হয়ে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে,
তখন কোন্ কথা জানাতে তার এত অধৈর্য।
–যে কথা দেহের অতীত।
খাঁচার পাখির কণ্ঠে যে বাণী
সে তো কেবল খাঁচারি নয়,
তার মধ্যে গোপনে আছে সুদূর অগোচরের অরণ্য-মর্মর,
আছে করুণ বিস্মৃতি।
সামনে তাকিয়ে চোখের দেখা দেখি–
এ তো কেবলি দেখার জাল-বোনা নয়।–
বসুন্ধরা তাকিয়ে থাকেন নির্নিমেষে
দেশ-পারানো কোন্ দেশের দিকে,
দিগ্বলয়ের ইঙ্গিতলীন
কোন্ কল্পলোকের অদৃশ্য সংকেতে।
দীর্ঘপথ ভালোমন্দয় বিকীর্ণ,
রাত্রিদিনের যাত্রা দুঃখসুখের বন্ধুর পথে।
শুধু কেবল পথ চলাতেই কি এ পথের লক্ষ্য?
ভিড়ের কলরব পেরিয়ে আসছে গানের আহ্বান,
তার সত্য মিলবে কোন্খানে?
মাটির তলায় সুপ্ত আছে বীজ।
তাকে স্পর্শ করে চৈত্রের তাপ,
মাঘের হিম, শ্রাবণের বৃষ্টিধারা।
অন্ধকারে সে দেখছে অভাবিতের স্বপ্ন।
স্বপ্নেই কি তার শেষ?
উষার আলোয় তার ফুলের প্রকাশ;
আজ নেই, তাই বলে কি নেই কোনোদিনই?
অনন্ত পথে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাতায়নে বসি ওরে হেরি প্রতিদিন—
ছোটো মেয়ে খেলাহীন, চপলতাহীন,
গম্ভীর কর্তব্যরত, তৎপরচরণে
আসে যায় নিত্যকাজে; অশ্রুভরা মনে
ওর মুখপানে চেয়ে হাসি স্নেহভরে।
আজি আমি তরী খুলি যাব দেশান্তরে;
বালিকাও যাবে কবে কর্ম-অবসানে
আপন স্বদেশে; ও আমারে নাহি জানে,
আমিও জানি নে ওরে; দেখিবারে চাহি
কোথা ওর হবে শেষ জীবসূত্র বাহি।
কোন্ অজানিত গ্রামে কোন্ দূরদেশে
কার ঘরে বধূ হবে, মাতা হবে শেষে,
তার পরে সব শেষ—তারো পরে, হায়,
এই মেয়েটির পথ চলেছে কোথায়!
২১ চৈত্র, ১৩০২
অনাদরে স্বামী প’ড়ে আছি আমি – কাজী নজরুল ইসলাম
অনাদরে স্বামী প’ড়ে আছি আমি তব কোলে তুলে নাও
নিয়ে ধরণীর ধূলি আছি আমি ভুলি’ চরণের ধূলি দাও॥
বিভবে বিলাসে সংসার কাজে
অশান্ত প্রাণ কাঁদে বন্ধন মাঝে
বৃথা দ্বারে দ্বারে চেয়েছি সবারে এবার তুমি মোরে চাও॥
যাহা কিছু প্রিয় জীবনের মম
হরিয়া লহ তুমি, লও প্রিয়তম।
সূর্যের পানে সূর্যমুখী ফুল
যেমন চাহিয়া রয় বিরহ-ব্যাকুল
তেমনি প্রভু আমার এ মন তোমার পানে ফিরাও॥
অন্ত্য রঙ্গ – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
হারে-রে রঙ্গিলা, তোর কথার টানে টানে
পাগল হয়ে ঘুরে বেড়াই, সমস্ত রাতভোর
কোন্ কামনার আগুন ছুঁয়ে স্বপ্ন দেখি তোর,
কোন্ দুরাশার, রঙ্গিলা? তুই হঠাৎ কোনোখানে
না ভাঙলে না-দেখার দেয়াল, মিথ্যে এ তোর খোঁজে
দিন কাটানোল বাঁধন খোলার স্বপ্নে দিয়ে ছাই
ঘর ছাড়িয়ে পরিয়ে দিলি পথের বাঁধন, তাই ব্যর্থ হল রঙ্গিলা তোর সমস্ত রঙ্গ যে।
হারে-রে রঙ্গিলা, তোর গানের টানে টানে
পার হয়েছি দুঃখ, তবু কেমন করে ভুলি
আজও আমার জীর্ণ শাখায় সুখের কুঁড়িগুলি
পাপড়ি মেলে দেয়নি, আমার শুকনো মরা গাঙে
তরঙ্গ নেই, হৃদয়ধনুর দৃপ্ত কঠিন ছিলা
দিনে দিনে শিথিল হল; রঙ্গিলা, এইবার
অন্ধকারকে ছিন্ন করে ফুলের মন্ত্র আর
ঢেউয়ের মন্ত্র শেখা আমায়, রঙ্গিলা রঙ্গিলা!
হারে-রে রঙ্গিলা, তোর সময় নিরবধি
রঙ্গও অনন্ত, আমার সময় নেই যে আর,
কে আমাকে শিখিয়ে দেবে পথের হাহাকার
কী করে হয় শান্ত, আমার প্রাণের শুকনো নদী
উজান বইবে কেমন করে, অমর্ত্য কোন্ গানে
ফুল ফুটিয়ে ব্যর্থ করি শীতের তাড়নায়,–
তুই যদি না শেখাস তবে চলব না আর, না,
রঙ্গিলা তোর কথার টানে, টানের টানে টানে।
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে – শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত
কাল সারারাত তার পাখা ঝরে পড়েছে বাতাসে
চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয়
মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হতো |
সারারাত ধরে তার পাখাখসা শব্দ আসে কানে
মনে হয় দূর হতে নক্ষত্রের তামাম উইল
উলোট-পালোট হয়ে পড়ে আছে আমার বাগানে |
এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন
পৃথিবীর সমস্ত রঙিন
পর্দাগুলি নিয়ে যাবো, নিয়ে যাবো শেফালির চারা
গোলাবাড়ি থেকে কিছু দূরে রবে সূর্যমুখী-পাড়া
এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন |
যদি কোনো পৃথিবীর কিশলয়ে বেসে থাকো ভালো
যদি কোনো আন্তরিক পর্যটনে জানালার আলো
দেখে যেতে চেয়ে থাকো, তাহাদের ঘরের ভিতরে—
আমাকে যাবার আগে বলো তা-ও, নেবো সঙ্গে করে |
ভুলে যেয়োনাকো তুমি আমাদের উঠানের কাছে
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে |
অনিদ্রার শোকচিহ্ন – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
বুকের ভেতরে এই ঝড় তুমি জানবে না,
নিরুপায় ধংশের মাঝে কেন এই স্বেচ্ছাদহনে
অনায়াসে স্বপ্নের সরল সংসারখানা ভেঙে ফেলি।
তুমি জানবে না, একখণ্ড মেঘের জন্যে কি বিশাল মরুভূমি
অভ্যন্তরে তুমুল সাইমুমে বিশটি চৈত্রের নিচে পুড়ে যায়
অক্ষম ক্ষোভে।
এই চোখ দেখে তুমি বুঝবে না, কতোটা ভাঙনের চিহ্ন
জীবনের কতোটা পরাজয় ছুঁয়ে তার বেড়েছে বয়সের মেধা।
অভিমানে কষ্ট বুজে আসে, নিরপরাধ বাসনার চোখে
স্বচ্ছ কাঁচের মতো জ’মে থাকে জল, টলমল—তবু ঝরে না কখনো . . .
শরীরে ঘামের ঘ্রানে শুধু কেটে যায় বেলা,
ক্লান্তিগুলো খুলে-খুলে আগামীকে বলি :
জননীর অপেক্ষা নিয়ে কতোটুকু রেখেছো আমার
পৌষে নবান্নের মতো কতোটুকু সুস্থির নিশ্চয়তা?
পরাজয় ক্ষত বুকে উবু হয়ে প’ড়ে থাকা রাতের শরীরে
গ্লানির ক্ষরনে ভেসে যায় চাঁদের করুন অবয়ব
তবু তুমি কিছুই জানো না—
এশিয়ার রাত জানে কতোটুকু অনিদ্রার শোক
জীবনের দুই চোখে বেড়ে ওঠে ভয়ানক কঠিন আক্রোশে!
অন্ধকার দেয় তারো বেশি – শক্তি চট্টোপাধ্যায়
উজ্জ্বলতা কতটুকু দিতে পারে, যা দেয় আঁধার
যা দেয় আঁধার, পাপ, ছিন্নমুণ্ড, নরকের ধোঁয়া
উজ্জ্বল দিতে পারে সেই সব ? দিতে পারে নাকি ?
রোদ্দুর অনেক দেয়, অন্ধকার দেয় তারো বেশি—
ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন মাংস রেখে দেয় মাটির ভিতরে
মানুষের মজ্জা পোড়ে শ্রদ্ধাময় অন্ধকার জ্বরে
রোদ্দুর অনেক দেয়, অন্ধকার দেয় তারো বেশি।
প্রেম কিছু দেয়, কিন্তু প্রেমের হীনতা দেয় খুব
বিরহ, গোপন মেঘ, হিংস্র থাবা, জিহ্বা ও যন্ত্রণা
পর্যুদস্ত করে দেয় আনন্দে আনন্দে সারাদিনই—
রোদ্দুর অনেক দেয়, অন্ধকার দেয় তারো বেশি!
কাব্যগ্রন্থ
‘ভাত নেই, পাথর রয়েছে’
অপমান – শঙ্খ ঘোষ
গান মুহূর্তে ধুলোয় লুটিয়ে পড়ে
চারদিকে এত জম্পেশ খেলাধুলো—
এরই মাঝখানে বয়ে যেতে হবে বলে
কানে তুলো আর পিঠেও বেঁধেছি কুলো।
তুমি ভেবেছিলে অপমান ছুড়ে যাবে
দু’কথা শুনিয়ে সুখ পাবে ভেবেছিলে
চোখের আড়ালে অশ্বথ্বের ডালে
ভেবেছ দু’ পাখি মরে যাবে এক ঢিলে।
মরেওছে বটে | তবে সে আমার নয়।
আমার পাখি তো লুকোন নৌকোজলে।
অবশ্য জানি, যা-কিছু লুকোন আজ
সবই পেতে চাও ছলেবলেকৌশলে।
‘লজ্জাও নেই নিজের ও-মুখ দেখে ?’
বলে ফোন রেখে দিয়েছে ঝনাত করে।
এ-বিষয়ে আর বেশি-কিছু বলব না
যা-বলার শেষ বলেছি একাক্ষরে।
খুবই দেখেশুনে বৈঠা বাইতে হবে
ওত পেতে আছে ঘাটে ঘাটে ঘড়িয়াল —
কবিতায় যদি গল্প লুকোন থাকে
টপ করে তাকে গিলে নেবে সিরিয়াল !
অবসরের গান – জীবনানন্দ দাশ
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের খেতে;
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
দেহের স্বাদের কথা কয়;
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট ক’রে দেবে তার সাধের সময়
চারিদিকে এখন সকাল—
রোদের নরম রং শিশুর গালের মতো লাল;
মাঠের ঘাসের ’পরে শৈশবের ঘ্রাণ—
পাড়াগাঁর পথে ক্ষান্ত উৎসবের এসেছে আহ্বান।
চারিদিকে নুয়ে প’ড়ে ফলেছে ফসল,
তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা-ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল;
প্রচুর শস্যের গন্ধ থেকে-থেকে আসিতেছে ভেসে
পেঁচা আর ইঁদুরের ঘ্রাণে ভরা আমাদের ভাঁড়ারের দেশে!
শরীর এলায়ে আসে এইখানে ফলন্ত ধানের মতো ক’রে,
যেই রোদ একবার এসে শুধু চ’লে যায় তাহার ঠোঁটের চুমো ধ’রে
আহ্লাদের অবসাদে ভ’রে আসে আমার শরীর,
চারিদিকে ছায়া—রোদ—খুদ—কুঁড়ো—কার্তিকের ভিড়;
চোখের সকল ক্ষুধা মিটে যায় এইখানে, এখানে হ’তেছে স্নিগ্ধ কান,
পাড়াগাঁর গায় আজ লেগে আছে রূপশালি-ধানভানা রূপসীর শরীরের ঘ্রাণ
আমি সেই সুন্দরীরে দেখে লই—নুয়ে আছে নদীর এ-পারে
বিয়োবার দেরি নাই—রূপ ঝ’রে পড়ে তার—
শীত এসে নষ্ট ক’রে দিয়ে যাবে তারে;
আজো তবু ফুরায়নি বৎসরের নতুন বয়স,
মাঠে-মাঠে ঝ’রে পড়ে কাঁচা রোদ—ভাঁড়ারের রস;
মাছির গানের মতো অনেক অলস শব্দ হয়
সকালবেলার রৌদ্রে; কুঁড়েমির আজিকে সময়।
গাছের ছায়ার তলে মদ ল’য়ে কোন ভাঁড় বেঁধেছিলো ছড়া!
তার সব কবিতার শেষ পাতা হবে আজ পড়া;
ভুলে গিয়ে রাজ্য—জয়—সাম্রাজ্যের কথা
অনেক মাটির তলে যেই মদ ঢাকা ছিলো তুলে নেবো তার শীতলতা;
ডেকে নেবো আইবুড়ো পাড়াগাঁর মেয়েদের সব;
মাঠের নিস্তেজ রোদে নাচ হবে—
শুরু হবে হেমন্তের নরম উৎসব।
হাতে হাত ধ’রে-ধ’রে গোল হ’য়ে ঘুরে-ঘুরে-ঘুরে
কার্তিকের মিঠে রোদে আমাদের মুখ যাবে পুড়ে;
ফলন্ত ধানের গন্ধে—রঙে তার—স্বাদে তার ভ’রে যাবে আমাদের সকলের দেহ;
রাগ কেহ করিবে না—আমাদের দেখে হিংসা করিবে না কেহ।
আমাদের অবসর বেশি নয়—ভালোবাসা আহ্লাদের অলস সময়
আমাদের সকলের আগে শেষ হয়;
দূরের নদীর মতো সুর তুলে অন্য এক ঘ্রাণ–অবসাদ–
আমাদের ডেকে লয়, তুলে লয় আমাদের ক্লান্ত মাথা, অবসন্ন হাত।
তখন শস্যের গন্ধ ফুরাযে গিয়েছে খেতে—রোদ গেছে প’ড়ে,
এসেছে বিকালবেলা তার শান্ত শাদা পথ ধ’রে;
তখন গিয়েছে থেমে ওই কুঁড়ে গেঁয়োদের মাঠের রগড়;
হেমন্ত বিয়ায়ে গেছে শেষ ঝরা মেয়ে তার শাদা মরা শেফালীর বিছানার ’পর;
মদের ফোঁটার শেষ হ’য়ে গেছে এ-মাঠের মাটির ভিতর,
তখন সবুজ ঘাস হ’য়ে গেছে শাদা সব, হ’যে গেছে আকাশ ধবল,
চ’লে গেছে পাড়াগাঁর আইবুড়ো মেয়েদেব দল।
২ অবসরের গান – বিখ্যাত বাংলা রূপক কবিতা 2026
পুরোনো পেঁচারা সব কোটরের থেকে
এসেছে বাহির হ’য়ে অন্ধকার দেখে
মাঠের মুখের ’পরে;
সবুজ ধানের নিচে—মাটির ভিতরে
ইঁদুরেরা চ’লে গেছে; আঁটির ভিতর থেকে চ’লে গেছে চাষা;
শস্যের খেতের পাশে আজ রাতে আমাদের জেগেছে পিপাসা।
ফলন্ত মাঠের ’পরে আমরা খুঁজি না আজ মরণের স্থান,
প্রেম আর পিপাসার গান
আমরা গাহিয়া যাই পাড়াগাঁর ভাঁড়ের মতন;
ফসল—ধানের ফলে যাহাদের মন
ভ’রে উঠে উপেক্ষা করিয়া গেছে সাম্রাজ্যেরে, অবহেলা ক’রে গেছে পৃথিবীর সব সিংহাসন—
আমাদের পাড়াগাঁর সেই সব ভাঁড়—
যুবরাজ রাজাদের হাড়ে আজ তাহাদের হাড়
মিশে গেছে অন্ধকারে অনেক মাটিব নিচে পৃথিবীর তলে;
কোটালের মতো তারা নিশ্বাসের জলে
ফুরায়নি তাদের সময়,
পৃথিবীর পুরোহিতদের মতো তা’রা করে নাই ভয়,
প্রণয়ীর মতো তা’রা ছেঁড়েনি হৃদয়
ছড়া বেঁধে শহরের মেযেদের নামে;
চাষীদের মতো তা’রা ক্লান্ত হ’যে কপালের ঘামে
কাটায়নি—কাটায়নি কাল;
অনেক মাটির নিচে তাদের কপাল
কোনো এক সম্রাটের সাথে
মিশিয়া রয়েছে আজ অন্ধকার রাতে,
যোদ্ধা—জয়ী—বিজয়ীর পাঁচ ফুট জমিনের কাছে—পাশাপাশি—
জিতিয়া রয়েছে আজ তাদের খুলির অট্টহাসি!
অনেক রাতের আগে এসে তা’রা চ’লে গেছে—তাদের দিনের আলো হয়েছে আঁধার,
সেই সব গেঁয়ো কবি—পাড়াগাঁর ভাঁড়—
আজ এই অন্ধকারে আসিবে কি আর?
তাদের ফলন্ত দেহ শুষে ল’য়ে জন্মিয়াছে আজ এই খেতের ফসল;
অনেক দিনের গন্ধে ভরা ওই ইঁদুরেরা জানে তাহা—জানে তাহা
নরম রাতের হাতে ঝরা এই শিশিরের জল!
সে-সব পেঁচারা আজ বিকালের নিশ্চলতা দেখে
তাহাদের নাম ধ’রে যায় ডেকে-ডেকে।
মাটির নিচের থেকে তা’রা
মৃতের মাথার স্বপ্নে ন’ড়ে উঠে জানায় কি অদ্ভূত ইশারা!
আঁধারের মশা আর নক্ষত্র তা জানে—
আমরাও আসিয়াছি ফসলের মাঠের আহ্বানে।
সূর্যের আলোর দিন ছেড়ে দিয়ে পৃথিবীর যশ পিছে ফেলে
শহর—বন্দর—বস্তি—কারখানা দেশলাইয়ে জ্বেলে
আসিয়াছি নেমে এই খেতে;
শরীরের অবসাদ–হৃদয়ের জ্বর ভুলে যেতে।
শীতল চাঁদের মতো শিশিরের ভেজা পথ ধ’রে
আমরা চলিতে চাই, তারপর যেতে চাই ম’রে
দিনের আলোয় লাল আগুনের মুখে পুড়ে মাছির মতন;
অগাধ ধানের রসে আমাদের মন
আমরা ভরিতে চাই গেঁয়ো কবি—পাড়াগাঁর ভাঁড়ের মতন
জমি উপ্ড়ায়ে ফেলে চ’লে গেছে চাষা
নতুন লাঙল তার প’ড়ে আছে—পুরানো পিপাসা
জেগে আছে মাঠের উপরে;
সময় হাঁকিয়া যায় পেঁচা ওই আমাদের তরে!
হেমন্তের ধান ওঠে ফ’লে—
দুই পা ছড়ায়ে বোসো এইখানে পৃথিবীর কোলে।
আকাশের মেঠো পথে থেমে ভেসে চলে যায় চাঁদ;
অবসর আছে তার—অবোধের মতন আহ্লাদ
আমাদের শেষ হবে যখন সে চ’লে যাবে পশ্চিমের পানে,
এটুকু সময় তাই কেটে যাক রূপ আর কামনার গানে।
৩ অবসরের গান – বিখ্যাত বাংলা রূপক কবিতা 2026
ফুরোনো খেতের গন্ধে এইখানে ভরেছে ভাঁড়ার;
পৃথিবীর পথে গিয়ে কাজ নেই, কোনো কৃষকের মতো দরকার নেই দূরে
মাঠে গিয়ে আর;
রোধ—অবরোধ—ক্লেশ—কোলাহল শুনিবার নাহিকো সময়,
জানিতে চাই না আর সম্রাট সেজেছে ভাঁড় কোন্খানে—
কোথায় নতুন ক’রে বেবিলন ভেঙে গুঁড়ো হয়;
আমার চোখের পাশে আনিও না সৈন্যদের মশালের আগুনের রং;
দামামা থামায়ে ফেল—পেঁচার পাখার মতো অন্ধকারে ডুবে যাক্
রাজ্য আর সাম্রাজ্যের সঙ।
এখানে নাহিকো কাজ—উৎসাহের ব্যথা নাই, উদ্যমের নাহিকে ভাবনা;
এখানে ফুরায়ে গেছে মাথার অনেক উত্তেজনা।
অলস মাছির শব্দে ভ’রে থাকে সকালের বিষণ্ণ সময়,
পৃথিবীরে মায়াবীর নদীর পারের দেশ ব’লে মনে হয়।
সকল পড়ন্ত রোদ চারিদিকে ছুটি পেয়ে জমিতেছে এইখানে এসে,
গ্রীষ্মের সমুদ্র থেকে চোখের ঘুমের গান আসিতেছে ভেসে,
এখানে পালঙ্কে শুয়ে কাটিবে অনেক দিন—
জেগে থেকে ঘুমাবার সাধ ভালোবেসে।
এখানে চকিত হ’তে হবেনাকো, ত্রস্ত হয়ে পড়িবার নাহিকো সময়;
উদ্যমের ব্যথা নাই—এইখানে নাই আর উৎসাহের ভয়;
এইখানে কাজ এসে জমেনাকো হাতে,
মাথায় চিন্তার ব্যথা হয় না জমাতে;
এখানে সৌন্দর্য এসে ধরিবে না হাত আর,
রাখিবে না চোখ আর নয়নের ’পর;
ভালোবাসা আসিবে না—
জীবন্ত কৃমির কাজ এখানে ফুরায়ে গেছে মাথার ভিতর।
অলস মাছির শব্দে ভ’রে থাকে সকালের বিষণ্ণ সময়,
পৃথিবীরে মায়াবীর নদীর পারের দেশ ব’লে মনে হয়;
সকল পড়ন্ত রোদ চারিদিকে ছুটি পেয়ে জমিতেছে এইখানে এসে,
গ্রীষ্মের সমুদ্র থেকে চোখের ঘুমের গান আসিতেছে ভেসে,
এখানে পালঙ্কে শুয়ে কাটিবে অনেক দিন জেগে থেকে ঘুমাবার সাধ ভালোবেসে
আরো পড়ুনঃ
- 15+ Inspiring Quotes by Premanand Ji Maharaj on Life and Spirituality
- বাংলা রোমান্টিক প্রেমের কবিতা
- আপনার প্রিয়জনের জন্য সেরা উক্তি ২০২৫
- জনপ্রিয় বাংলা প্রেমের কবিতা: হৃদয়ের ছোঁয়া
www.siksakul.com — আপনার পড়াশোনা, চাকরি প্রস্তুতি ও জ্ঞান বৃদ্ধির নির্ভরযোগ্য অনলাইন ঠিকানা!






