Top Inspirational Quotes of Famous Poets and Writers: সাহিত্য ও অনুপ্রেরণার এক সুন্দর মিলনস্থল হিসেবে Raateralo সবসময় চেষ্টা করে পাঠকদের সামনে এমন কনটেন্ট তুলে ধরতে যা মনকে শক্তি দেয়, ভাবনাকে গভীর করে এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা জোগায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা নিয়ে এসেছি Top 100 inspirational quotes—বিশ্বের বিখ্যাত কবি ও লেখকদের এমন কিছু উক্তির সংগ্রহ যা সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। যেমন Rabindranath Tagore, William Shakespeare এবং Percy Bysshe Shelley-এর মতো মহান সাহিত্যিকদের চিন্তা আমাদের জীবনকে নতুন আলোয় দেখতে শেখায়।
Raateralo-র এই বিশেষ ব্লগে আপনি পাবেন famous poets quotes, writers inspirational quotes, motivational quotes by famous authors, best poetry quotes collection, famous literary quotes এবং আরও অসংখ্য timeless literary lines যা প্রতিদিনের জীবনে ইতিবাচকতা তৈরি করতে সাহায্য করবে। কবিদের অনুপ্রেরণার লাইন, classic literature quotes, motivational sayings by writers এবং famous poet quotes about life আমাদের শেখায় কীভাবে কঠিন সময়েও আশা ধরে রাখতে হয়। inspiring author quotes collection এবং timeless poetry quotes শুধু সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য নয়—শিক্ষার্থী, ব্লগার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও সমানভাবে উপকারী।
এই সংগ্রহে রয়েছে positive quotes by poets and writers, meaningful poetry lines, world famous authors quotes, romantic poet quotes collection, deep quotes by writers—যেখানে প্রেম, জীবন, স্বপ্ন, আশা ও সফলতার নানা অনুভূতি ধরা পড়েছে। classic poetry inspirational lines, famous book quotes inspiration এবং writers quotes about success আমাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে সাহস জোগায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য inspirational poetry lines for students এবং uplifting quotes by writers পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলা পাঠকদের কথা মাথায় রেখে Raateralo এখানে যুক্ত করেছে সেরা ১০০ অনুপ্রেরণামূলক উক্তি, বিখ্যাত কবিদের উক্তি, লেখকদের প্রেরণামূলক বাণী, চিরন্তন কবিতার উক্তি, সাহিত্য মোটিভেশন উক্তি, বিশ্বসাহিত্যের অনুপ্রেরণামূলক উক্তি সহ আরও বহু বিষয়ভিত্তিক সংগ্রহ। মহান লেখকদের জীবনবাণী, স্বপ্ন নিয়ে কবিতার উক্তি, গভীর সাহিত্য বাণী এবং পাঠকদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক উক্তি আপনাকে প্রতিদিন নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করবে।
Raateralo-র এই ব্লগটি মূলত একটি সমৃদ্ধ world poets inspirational collection—যেখানে poetry quotes for daily motivation, famous literature positive quotes, top literary quotes list এবং motivational poetry quotes for blog একসাথে সাজানো হয়েছে। আপনি যদি সাহিত্য ভালোবাসেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় উক্তি শেয়ার করেন বা জীবনে নতুন অনুপ্রেরণা খুঁজছেন—তবে Raateralo-র এই best inspirational quotes of poets and writers সংগ্রহ আপনার জন্য হয়ে উঠবে এক অনন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
Top Inspirational Quotes of Famous Poets and Writers
| উক্তি | বিশ্লেষণ | কবি ও লেখক |
|---|---|---|
| ১. যতদিন রবে পদ্মা-মেঘনা-গৌরি-যমুনা বহমান, ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান। | যতদিন প্রবাহিত থাকবে পদ্মা-মেঘনা-গৌরী-যমুনার ধারা, ততদিন অম্লান থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবগাথা। | অন্নদাশঙ্কর রায় |
| ২. আধুনিক সভ্যতা দিয়েছে বেগ, নিয়েছে আবেগ। | আধুনিক সভ্যতা যান্ত্রিক গতি এনে দিলেও কেড়ে নিয়েছে হৃদয়ের উষ্ণতা ও আবেগ। | বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় |
| ৩. জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর। | যিনি সমস্ত প্রাণীর প্রতি প্রেম দেখান, তিনিই প্রকৃত অর্থে ঈশ্বরের আরাধনা করেন। | স্বামী বিবেকানন্দ |
| ৪. লোকে বলে, বলে-রে, ঘর-বাড়ি ভালা না আমার। | মানুষ বলে বটে, আমার এই ঘর-দোর কিছুই তেমন ভালো নয়। | হাসন রাজা |
| ৫. মহাজ্ঞানী মহাজন যে পথে করে গমন হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয় । | যেই পথে মহাজ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিরা পরিক্রমা করেছেন, সেই পথ স্মরণীয় ও অনুসরণীয়। | হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় |
| ৬. কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদুর? মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর। | স্বর্গ আর নরক কি সত্যিই বহু দূরে? মানুষের মাঝেই এর অবস্থান, মানুষ নিজেই দেবতা অসুর। | শেখ ফজলুল করিম |
| ৭. সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন। | হে সৌন্দর্য, আমাদের একটি সুন্দর জীবন দান করো; সমস্ত অকল্যাণ ও অশোভনকে দূরে সরিয়ে দাও। | শেখ ফজলুল করিম |
| ৮. লাগলে মাথায় বৃষ্টি-বাতাস উল্টে কি যায় সৃষ্টি আকাশ? | মাথায় যদি বৃষ্টি-বাদল পড়ে, তাতে কি এই সৃষ্টিজগৎ কিংবা আকাশ উল্টে যায়? | শেখ ফজলুল করিম |
| ৯. বাঁচতে হলে লাঙ্গল ধর রে এবার এসে গাঁয়। | বেঁচে থাকতে চাইলে, এখনই গ্রামে গিয়ে লাঙ্গল হাতে কৃষিকাজে মন দে। | শেখ ফজলুল করিম |
| ১০. চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে? কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে। | যে ব্যক্তি চিরকাল সুখী, সে কি কখনো কারও ব্যথা-বেদনা বুঝতে পারে? যে কখনো সাপের বিষে দংশিত হয়নি, সে বিষের যন্ত্রণা কী করে বুঝবে? | কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার |
| ১১. যে জন দিবসে মনের হরষে, জ্বালায় মোমের বাতি, আশু গৃহে তার, দেখিবে না আর, নিশীথে প্রদীপ ভাতি। | যে ব্যক্তি দিনের বেলায় আনন্দে মোমের বাতি জ্বালায়, রাতে তার ঘরে আর সেই বাতির আলো জ্বলতে দেখবে না। | কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার |
| ১২. কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমলতুলিতে দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে? | পদ্মফুল তুলতে গিয়ে কাঁটা দেখেই কি থেমে যাবে? এই পৃথিবীতে কি দুঃখ ছাড়া কখনো সুখ লাভ করা যায়? | কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার |
| ১৩. কেন পান্থ ক্ষান্থ হও হেরি দীর্ঘ পথ উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ। | হে পথিক, পথ যে দীর্ঘ দেখছো বলে কেন থমকে দাঁড়াও? উদ্যোগ বা চেষ্টা ছাড়া কারো মনস্কামনা কি পূর্ণ হয়? | কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার |
| ১৪. ফুল ফুলতুলতুল গা ভেজা শিশিরে, বুলবুল মশগুল কার গান গাহিরে । | শিশিরে ভেজা ফুলেরা সজীব হয়ে আছে, কোথাও বুলবুল পাখি মগ্ন হয়ে কার গান যেন গেয়ে চলেছে। | কালীপ্রসন্ন ঘোষ |
| ১৫. পারিবনা একথাটি বলিও না আর, কেন পারিবেনা তাহা ভাব একবার, পাঁচজনে পারে যাহা, তুমিও পারিবে তাহা, পার কি না পার কর যতন আবার একবার না পারিলে দেখ শতবার । | ‘পারবো না’ কথাটি আর উচ্চারণ করো না। একবার ভাবো, তুমি কেন পারবে না? অন্যরা যা পারে, তুমিও তা পারবে। যদি না-ও পারো, আবার চেষ্টা করো; একবার না পারলে দেখো শতবার। | কালীপ্রসন্ন ঘোষ |
| ১৬. বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে। | চড়ুই পাখি বাবুইকে ডেকে বলছে, তুই এত শিল্পের বড়াই করিস, কিন্তু থাকিস তো ছোট্ট কুঁড়েঘরে। আমি বিরাট অট্টালিকায় সুখে থাকি; আর তুই রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে কষ্ট পাস। | রজনীকান্ত সেন |
| ১৭. কত রাজ্য, কত রাজা গড়িছ নিরবে হে পূজ্য, হে প্রিয়। একত্বে বরেণ্য তুমি, শরণ্য এককে, আত্মার আত্মীয়। | হে পূজনীয় ও প্রিয়তম, তুমি নীরবে কত রাজ্য আর রাজাই গড়েছ। তুমি ঐক্যের জন্য বরণীয়, সকলের আশ্রয়স্থল এবং আত্মার আত্মীয়। | অক্ষয়কুমার বড়াল |
| ১৮. নানান দেশের নানা ভাষা, বিনে স্বদেশি ভাষা, পুরে কি আশা? (টপ্পা গান) | পৃথিবীতে নানা দেশের নানা ভাষা আছে, কিন্তু নিজের মাতৃভাষা ছাড়া কি আর কোনো ভাষায় মনের আশা পূর্ণ হয়? | রামনিধি গুপ্ত |
| ১৯. বাংলার কাব্য বাংলার ভাষা মিটায় আমার প্রাণের পিপাসা, সে দেশ আমার নয় গো আপন, যে দেশে বাঙালি নেই। | বাংলার কবিতা আর বাংলা ভাষাই আমার প্রাণের তৃষ্ণা মেটায়। যে দেশে বাঙালি নেই, সে দেশ আমার নিজের নয়। | রামনিধি গুপ্ত |
| ২০. মোদের গরব, মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা। | আমাদের গর্ব, আমাদের আশা এই যে, কী আনন্দময় আমাদের বাংলা ভাষা! | অতুলপ্রসাদ সেন |
| ২১. ফাঁসির মঞ্চ গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তা’রা, দিবে কোন বলিদান? | যারা ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও জীবনের জয়গান গেয়ে গেছেন, তারা আজ অদৃশ্য থেকে দাঁড়িয়ে আছেন; আমরা তাদের উদ্দেশ্যে কী বলিদান দিতে পারি? | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ২২. “হে মোর চিত্ত, পূণ্য তীর্থে এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে।” | হে আমার মন, চলো আমরা পুণ্যতীর্থে যাই, যেখানে ভারতের মহামানবদের মিলনসাগরের তীর। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ২৩. তোমার ন্যায়ের দন্ড প্রত্যেকের করে অর্পণ করেছে নিজে প্রত্যেকের পরে দিয়েছে শাসনভার হে রাজাধিরাজ । | হে রাজাধিরাজ, তুমি নিজেই প্রত্যেকের হাতে ন্যায়ের শাসনদণ্ড তুলে দিয়েছ এবং তাদের উপর শাসনের ভার অর্পণ করেছ। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ২৪. সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে, কবি এক জাগে; কত কথা পুষ্প প্রায়, বিকশি তুলিতে চায় কত অনুরাগে । | সেদিন ব্যাকুল প্রাণে, হৃদয় যখন গানে মগ্ন, তখন কবির জাগরণ ঘটে; কত না কথা ফুলের মতো ফুটে উঠতে চায়, কত ভালোবাসায়। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ২৫. তোমার কীর্তির চেয়ে তুমি যে মহৎ তাই তব জীবনের বথ পশ্চাতে ফেলিয়া যায় কীর্তিরে তোমার বারংবার চিহ্ন তব পড়ে আছে তুমি হেথা নাই । | তুমি তোমার কীর্তির চেয়েও মহৎ, তাই তোমার জীবনের পথচলা বারবার তোমার কীর্তিকে পেছনে ফেলে যায়। তোমার চিহ্ন এখানে রয়েছে, কিন্তু তুমি নিজে আর এখানে নেই। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ২৬. দেবতারে যাহা দিতে পারি, দিই তাই প্রিয়জনে প্রিয়জনে যাহাদিতে পাই তাই দেব দেবতারে । | দেবতাকে যা দিতে পারি, তাই প্রিয়জনকে দিই; আবার প্রিয়জনের কাছ থেকে যা পাই, তাই দেবতাকে অর্পণ করি। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ২৭. বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা বিপদে আমি না যেন করি ভয়। | আমি বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা করি না; আমার প্রার্থনা, যেন বিপদের সময় আমি ভয় না পাই। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ২৮. সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি লভিলে শুধু বঞ্চনা নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়। | সংসারে যদি ক্ষতি ঘটে বা কেবল প্রতারণাই পাই, তবুও নিজের মনে যেন কোনো ক্ষয় না মানি। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ২৯. খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে বনের পাখি ছিল বনে। একদা কী করিয়া মিলন হল দোঁহে, কী ছিল বিধাতার মনে । | সোনার খাঁচায় ছিল খাঁচার পাখি, আর বনে ছিল বনের পাখি। একদিন কীভাবে যেন তাদের দেখা হয়ে গেল; কী ভেবেই বা বিধাতা এমনটি ঘটালেন! | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ৩০. ওরে নবীন’ ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা। | ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা-পাকা, ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ! তুই আধমরা লোকদের আঘাত করে বেঁচে থাক। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ৩১. মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান। মেঘবরণ তুজ, শেঘ জটাজুন্ট, রক্ত কমলকর, রক্ত অধরপুট, তাপ বিমোচন করুন কোর তব মৃত্যু-অমৃত করে দান । তুঁহু মম শ্যামসমান । | হে মৃত্যু, তুমি আমার কাছে কৃষ্ণেরই সমান। তোমার মেঘের মতো বর্ণ, জটাজুট, রক্তকমলের মতো হাত ও রক্তবর্ণ অধর – তুমি যে আমাদের তাপ দূর করে মৃত্যুর ভিতর দিয়ে অমৃত দান কর। তুমি সত্যিই আমার শ্যামের মতো। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ৩২. খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে বনের পাখি ছিল বনে। একদা কী করিয়া মিলন হল দোঁহে, কী ছিল বিধাতার মনে । | সোনার খাঁচার পাখি আর বনের পাখির দেখা হয়ে গেল একদিন। কী উদ্দেশ্যে বিধাতা এই মিলন ঘটালেন, কে জানে! | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ৩৩. যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি, এবার পুঁজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি । | যিনি আমাকে দেখতে পান তাঁর অসীম ক্ষমতায়, ভালো-মন্দ সবকিছু মিশিয়ে, আমি এবার তাঁকেই নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ৩৪. উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই, ওরে ভয় নাই, নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই-তার ক্ষয় নাই । | উদয়ের পথে কার যেন বাণী শুনি— ‘ভয় নাই, ওরে ভয় নাই’। যে নিজের প্রাণ নিঃশেষে দান করে, তার কিছুই ক্ষয় হয় না— তার কোনো ক্ষয় নেই। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ৩৫. মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ। | মানুষকে বিশ্বাস করতে না পারা, সেটাই সবচেয়ে বড় পাপ। | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| ৩৬. ছিপখান তিন দাড় তিনজন মাল্লা চৌপর দিন ভর দ্যায় দূর পাল্লা। | ছিপখানি তিনটি, দাঁড়ও তিনজন মাঝির হাতে, সারাদিন ধরে তারা চারিদিকে দূর দূরান্তে পাড়ি দেয়। | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত |
| ৩৭. মধুর চেয়ে আছে মধুর সে আমার এই দেশের মাটি আমার দেশের পথের ধূলা খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি | মধুর চেয়েও যে অধিক মধুর, তা হলো আমার এই দেশের মাটি। আমার দেশের পথের ধুলো খাঁটি সোনার চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান। | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত |
| ৩৮. জোটে যদি মোটে একটি পয়সা, খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি দুটি যদি জোটে ফুল কিনে নেও হে অনুরাগী । | যদি মাত্র একটি পয়সা জোটে, তা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার কিনো। আর যদি দুটি পয়সা জোটে, তাহলে হে অনুরাগী, তার একটি দিয়ে ফুল কিনে নিও। | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত |
| ৩৯. কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায়, তা বলে কুকুরে কামড়ান কি মানুষের শোভা পায় । | কুকুর তার স্বভাববশত কামড়েই দিয়েছে পায়ে, কিন্তু তাই বলে কুকুরকে কামড়ানো কি একজন মানুষের উচিত কাজ? | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত |
| ৪০. কোন দেশেতে তরুলতা সকল দেশের চাইতে শ্যামল? কোন দেশেতে চলতে গেলে দলতে হয়রে দুর্বা কমল? | কোন দেশের গাছপালা সব দেশের চেয়ে বেশি সবুজ? কোন দেশে হাঁটতে গেলে পায়ে দূর্বা ঘাস আর কমল ফুল দলিত হয়? | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত |
| ৪১. এমন যদি হত ইচ্ছে হলেই আমি হতাম প্রজাপতির মত। | কতই না ভালো হতো, যদি আমার ইচ্ছে হলেই আমি প্রজাপতির মতো রঙিন ডানা মেলে উড়তে পারতাম! | সুকুমার বড়ুয়া |
| ৪২. ধরণীর কোন এক দীনতম গৃহে যদি জন্মে প্রেয়সী আমার, সে বালিকা বক্ষে তার রাখিবে সঞ্চয় করি সুধার ভাণ্ডার আমারি লাগিয়া। | এই পৃথিবীর কোনো এক দরিদ্রতম ঘরে যদি আমার প্রেয়সীর জন্ম হয়, তবে সেই মেয়েটি তার বুকেই আমার জন্যই সুধার ভাণ্ডার সঞ্চয় করে রাখবে। | মোহিতলাল মজুমদার |
| ৪৩. পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল। | রাত পোহালো, এখন পাখিরা সব ডাকাডাকি শুরু করেছে। | মদনমোহন তর্কালঙ্কার |
| ৪৪. সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি। | প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে মনে এই কামনা করি, সারাটি দিন আমি যেন ভালো ব্যবহার করে চলতে পারি। | মদনমোহন তর্কালঙ্কার |
| ৪৫. স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়? | স্বাধীনতা নেই, সেই হীন অবস্থায় কেই-বা বেঁচে থাকতে চায়? | রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় |
| ৪৬. করিতে পারিনা কাজ সদা ভয় সদা লাজ সংশয়ে সংকল্প সদা টলে পাছে লোকে কিছু বলে । | কাজ করতে পারি না, সব সময় ভয় আর লজ্জায় থাকি। সন্দেহে সংকল্প সর্বদা টলতে থাকে শুধু এই ভয়ে যে, লোকে কী বলবে! | কামিনী রায় |
| ৪৭. পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে ? আপনার কথা ভুলিয়া যাও । | পরের জন্য নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বলি, জীবন, মন, সবকিছু উৎসর্গ করে দাও। এ রকম সুখ কি আর কোথাও আছে? নিজের কথা পুরোপুরি ভুলে যেতে পারার মাঝেই সেই সুখ। | কামিনী রায় |
| ৪৮. আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী ‘পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। | শুধু নিজেকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করে বেঁচে থাকার জন্য কেউ এই পৃথিবীতে আসে নি। আমরা সকলে সবার জন্য, আর প্রত্যেকেই অন্যের জন্য। | কামিনী রায় |
| ৪৯. একটুখানি ভুলের তরে অনেক বিপদ ঘটে, ভুল করেছে যারা, সবাই ভুক্তভোগী বটে। | সামান্য একটু ভুলের কারণে অনেক বড় বিপদ ঘটে যায়। যারা ভুল করেছে, তারা প্রত্যেকেই তার কষ্ট ভোগ করে। | আবুল হোসেন মিয়া |
| ৫০. একটু খানি স্নেহের কথা, একটু ভালোবাসা গড়তে পারে এই দুনিয়ায় শান্তি সুখের বাসা। | সামান্য একটু স্নেহের আদর, একটুখানি ভালোবাসা, এই দুনিয়াতেই শান্তি আর সুখের ঘর বানিয়ে তুলতে পারে। | আবুল হোসেন মিয়া |
| ৫১. লোকে কয়, কাঁঠাল সে পাকে নাকি কিলিয়ে? বুদ্ধি পাকিয়ে তোলে লেখাপড়া গিলিয়ে। | লোকে বলে, কাঁঠাল কি পেটানোর ফলে পাকে? তেমনিভাবে লেখাপড়া মুখস্থবিদ্যা গিলেই কি বুদ্ধি পাকে? | সুকুমার রায় |
| ৫২. বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে, মাঝিরে কন, বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে? | বিদ্যায় বোঝাই বাবু মশাই শখের বোটে চড়ে মাঝিকে জিজ্ঞেস করলেন, বলতে পারিস, সূর্য ওঠে কেন? | সুকুমার রায় |
| ৫৩. বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই? | ঐ দেখো বাঁশবাগানের মাথার ওপরে চাঁদ উঠেছে, কিন্তু মাগো, আমার সেই ছড়া বলা কাজলা দিদি কোথায়? | যতীন্দ্রমোহন বাগচী |
| ৫৪. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই । | ফুলের এমন মিষ্টি গন্ধ যে ঘুম আসতে চায় না, তাই একা জেগেই রইলাম। | যতীন্দ্রমোহন বাগচী |
| ৫৫. আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। | আমাদের দেশে কবে সে ছেলে আসবে, যে কথা বলে নয়, বরং কাজ করেই বড় হবে? | কুসুমকুমারী দাশ |
| ৫৬. ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো। | ও হারামজাদা, ভাত দে, নাহলে এই মানচিত্রটাই খেয়ে ফেলবো। | রফিক আজাদ |
| ৫৭. আমার স্বপ্ন হোক ফসলের সুষম বন্টন। | আমার স্বপ্ন যেন ফসলের ন্যায্য ও সুন্দর বণ্টনের হয়। | সমর সেন |
| ৫৮. এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার উর্দ্ধমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে, সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি। | রমনার এই আকাশমুখী কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে যারা প্রাণ দিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে আমি কেবল কাঁদতে আসিনি। | মাহবুবুল আলম চৌধুরী |
| ৫৯. মার চোখে নেই অশ্রু কেবল অনলজ্বালা, দু’চোখে তাঁর শত্রু হননের আহবান। | মায়ের চোখে অশ্রু নেই, আছে কেবল আগুনের জ্বালা; তাঁর দু’চোখে শত্রু বধের আহ্বান। | মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান |
| ৬০. আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি’ | আমরা যে হিন্দু কিংবা মুসলমান, এটা যেমন সত্য, তার চেয়েও বড় সত্য হলো আমরা বাঙালি। | ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ |
| ৬১. সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই | পৃথিবীর সকল কিছুর চেয়ে মানুষই সত্য, তার চেয়ে বড় কিছুই নেই। | চন্ডীদাস |
| ৬২. কেমনে ধরিব হিয়া | কীভাবে আমার হৃদয়কে ধারণ করবো, সংযত করবো! | চন্ডীদাস |
| ৬৩. সকল দেশের রানী সে যে – আমার জন্মভূমি | আমার জন্মভূমিই তো是所有 দেশের রানী। | দ্বিজেন্দ্রলাল রায় |
| ৬৪. কতরূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি, বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া। | দেশি কুকুরকে কত রকম স্নেহ করি, আদর করি; আর বিদেশি দেবতাকে উপেক্ষা করি, ফেলে রাখি। | ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত |
| ৬৫. আপনাকে বড় বলে বড় সেই নয় লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয় | নিজেকে নিজেই বড় বলে দাবি করলেই বড় হওয়া যায় না; অন্য লোক যাকেই বড় বলে স্বীকার করে, সেই সত্যিকার অর্থে বড়। | ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত |
| ৬৬. নগরের লোক সব এই কয় মাস । তোমার কৃপায় করে মহাসুখে বাস । | নগরের লোকজন এই কয়েক মাস (শরৎকালে) তোমার (আকাশের) কৃপায় মহাসুখে জীবনযাপন করে। | ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত |
| ৬৭. যে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন। নিজ পরিশ্রমে তুষি আমি সর্বজন । | আমি যে কাজে নিজেকে নিবেদিত করেছি, তা হলো বাংলা ভাষায় রচনা সৃষ্টি করা। আমার নিজের পরিশ্রম দিয়ে আমি সকলকে তুষ্ট করতে চাই। | আবদুল হাকিম |
| ৬৮. যেই দেশে যেই ভাষ্যে কহে নরগণ । সেই বাক্যে বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন । | মানুষ যে দেশে যে ভাষায় কথা বলে, নির্ঞ্জন প্রভুও সেই ভাষাতেই তার কথা বুঝতে পারেন। | আবদুল হাকিম |
| ৬৯. বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে, কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে? | পৃথিবীর বহু দেশের অসংখ্য নদী দেখেছি, কিন্তু মাতৃস্নেহের তৃষ্ণা নিবারণের শক্তি কি কারো আছে? | মাইকেল মধুসূদন দত্ত |
| ৭০. জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা হবে? | একবার জন্ম নিলে একদিন মৃত্যু অবধারিত; এমন কে আছে যে অমরত্ব লাভ করেছে? | মাইকেল মধুসূদন দত্ত |
| ৭১. ঊর্ধ্ব শির যদি তুমি কুল মনে ধনে; করিওনা ঘৃণা তব নীচ শির জনে । | যদি তুমি উচ্চশিরে দাঁড়িয়ে কুলীন বলে মনে করো, তবে কখনো সেই নতশির ব্যক্তিকে ঘৃণা করো না। | মাইকেল মধুসূদন দত্ত |
| ৭২. বন্ধু তোমার ছাড় উদ্বেগ, সূতীক্ষ্ম কর চিত্ত, বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত। | হে বন্ধু, উদ্বেগ ত্যাগ করে মনকে তীক্ষ্ণ করো; দুর্বৃত্তরা যেন জেনে নেয়, বাংলার মাটি অজেয় দুর্গ। | সুকান্ত ভট্টাচার্য |
| ৭৩. কত গ্রাম কত পথ যায় সরে সরে শহরে রানার যাবেই পৌঁছে ভোরে। | পেছনে ফেলে আসে কত গ্রাম, কত পথ; শহরে রানার তো ভোরেই পৌঁছে যাবেই। | সুকান্ত ভট্টাচার্য |
| ৭৪. এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান; জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত ধ্বংসস্তু-পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের। | নতুন শিশু এসেছে, তাকে স্থান ছেড়ে দিতে হবে; জীর্ণ পৃথিবীর বুকে, ব্যর্থতার ধ্বংসস্তূপের ওপর আমাদের চলে যেতে হবে। | সুকান্ত ভট্টাচার্য |
| ৭৫. এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। | আমি এই বিশ্বকে এই শিশুর বাসযোগ্য করে যাব— প্রতিটি নবজাতকের কাছে এটি আমার অমোঘ অঙ্গীকার। | সুকান্ত ভট্টাচার্য |
| ৭৬. যে শিশু ভূমিষ্ট হল আজ রাতে তার মুখে খবর পেলুম সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক । | আজ রাতে যে শিশু ভূমিষ্ঠ হলো, তার আগমনী বার্তায় জানলাম— সে পেয়েছে এক নতুন পৃথিবীর ছাড়পত্র। | সুকান্ত ভট্টাচার্য |
| ৭৭. এ নদীর পাশে মজা নদী বার মাস বর্ষায় আজ বিদ্রোহ বুঝি করে । | এ নদীর পাশে আরেক নদী বারো মাস মিশে থাকে; বর্ষায় এসে সে যেন বিদ্রোহ ঘোষণা করে। | সুকান্ত ভট্টাচার্য |
| ৭৮. ‘ক্ষুধার রাজ্য পৃথিবী গদ্যময় পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’ | ক্ষুধার এই পৃথিবী একেবারে গদ্যময়; আজ পূর্ণিমার চাঁদটাও মনে হচ্ছে ঝলসানো এক টুকরো রুটি। | সুকান্ত ভট্টাচার্য |
| ৭৯. “ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।“ | সাধারণ মানুষের কাছে ধর্মই সংস্কৃতি; আর শিক্ষিত, পরিশীলিত মানুষের কাছে সংস্কৃতিই ধর্ম। | মোতাহের হোসেন চৌধুরী |
| ৮০. আহা,কি মধুর ওই আযানের ধ্বনি মর্মে মর্মে সেই সুর বাজিল কি সুমধুর আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী । | আহা, কী মধুর সেই আযানের সুর! মর্মমূলে বেজে ওঠে সেই সুমধুর ধ্বনি; প্রাণ হয়ে ওঠে আকুল, ধমনী নেচে ওঠে। | কায়কোবাদ |
| ৮১. আমি তো পাগল হয়ে যাই যে মধুর তানে কি যে এক আকর্ষণে ছুটে যাই মুগ্ধ মনে । | আমি তো পাগল হয়ে যাই সেই মধুর সুরে; কী এক অজানা আকর্ষণে মুগ্ধ মনে ছুটে যাই তারই পিছে। | কায়কোবাদ |
| ৮২. ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’ | পৃথিবীতে যা কিছু মহান ও চিরকল্যাণকর সৃষ্টি, তার অর্ধেক সৃষ্টি করেছে নারী, আর বাকি অর্ধেক পুরুষ। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৮৩. ‘তবুও থামে না যৌবন বেগ, জীবনের উল্লাসে’ | জীবনের উল্লাসে আজও যৌবনের বেগ কিছুতেই থামে না। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৮৪. আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ। | আমি বেদুইন, আমি চেঙ্গিসের মতো; নিজেকে ছাড়া আর কাউকে কুর্নিশ জানাই না। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৮৫. নাচে পাপ-সিন্ধু তুঙ্গ তরঙ্গ। মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ। নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে, ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে। | পাপের সাগরে নাচে প্রকাণ্ড তরঙ্গ; মৃত্যুর মহানিশা উলঙ্গ ও রুদ্র রূপ ধারণ করে। নিশাচর গ্রাস করে ফেলে মহাবিশ্বকে; তরণীর পাপী যাত্রীরা নিঃস্ব হয়ে ত্রাসে কাঁপে। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| Original Quote (as provided) | Rewritten Quote | |
|---|---|---|
| ৮৬. হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছ মহান । তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্টের সম্মান কণ্টক মুকুট শোভা । | হে দরিদ্রতা, তুমিই আমাকে মহৎ করে তুলেছ; তুমি আমাকে খ্রিস্টের কণ্টকমুকুটের সম্মানে ভূষিত করেছ। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৮৭. গাহি সাম্যের গান মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান ।” | আমি সাম্যের গান গাই; মানুষের চেয়ে বড় কিছুই নেই, কিছুই নেই তার চেয়ে মহীয়ান। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৮৮. গাহি তাহাদের গান বিশ্বের সাথে জীবনের পথে যারা আজি আগুয়ান । | আমি তাদেরই গান গাই, যারা আজ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনের পথে অগ্রগামী। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৮৯. কাটাকুঞ্জে বসি তুই গাঁতাবি মালিকা দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা । | তুই কন্টককুঞ্জে বসে ফুলের মালা গাঁথবি; আমি তোর ভালে বেদনার টীকা এঁকে দিলাম। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৯০. থাকব নাক বন্ধ ঘরে দেখব এবার জগৎটাকে কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে । | আমি কি নাক বন্ধ করে ঘরে পড়ে থাকব? এবার দেখব জগৎটাকে—কীভাবে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৯১. সাহেব কহেন, “চমৎকার! সে চমৎকার ! মোসাহেব বলে, “চমৎকার সে হতেই হবে যে।’ হুজুরের মতে অমত কার? | সাহেব বলেন, “চমৎকার! সত্যিই চমৎকার!” মোসাহেব তাতে সুর মেলান, “চমৎকার তো হতেই হবে।” হুজুরের মতের অমত করবার কে? | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৯২. “চাষী ওরা, নয়কো চাষা, নয়কো ছোটলোক” | তারা চাষী, কোনো চাষা বা ছোটলোক নয়—তাদের মর্যাদা অন্যরকম। | কাজী নজরুল ইসলাম |
| ৯৩. মেঘ বৃষ্টি আলোর দেশে নদী চলে জমিন ঘেষে । | মেঘ-বৃষ্টি-আলোর দেশে নদী মাটির খুব কাছ ঘেঁষে প্রবাহিত হয়। | ফররুখ আহমদ |
| ৯৪. “সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা নামে’ | সারাদিনের শেষে শিশির পড়ার মৃদু শব্দের মতো নিঃশব্দে সন্ধ্যা নেমে আসে। | জীবনানন্দ দাশ |
| ৯৫. ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ দেখিতে চাই না আর’ | আমি বাংলার রূপ নিজ চোখে দেখেছি; তাই আর পৃথিবীর অন্য কোনো সৌন্দর্য দেখতে চাই না। | জীবনানন্দ দাশ |
| ৯৬. আমারে ছাড়িয়া এত ব্যাথা যার কেমন করিয়া হায়, কবর দেশেতে ঘুমিয়ে রয়েছে নিঝঝুম নিরালায় ! | আমাকে ছেড়ে যে এত ব্যথা নিয়ে চলে গেল, সে এখন কবরের দেশে নিঝুম নিরালায় ঘুমিয়ে রয়েছে। | জসীম উদ্দিন |
| ৯৭. বাপের বাড়িতে যাইবার কালে কহিত ধরিয়া পা, আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ | বাপের বাড়ি যাওয়ার সময় পা ধরে বলতো, আমাকে দেখতে কিন্তু উজান-তলীর গ্রামে যেও। | জসীম উদ্দিন |
| ৯৮. এতটুকু তারে ঘরে এনছিনু সোনার মতন মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক । | তাকে এতটুকু বয়সে সোনার মুখখানি নিয়ে ঘরে এনেছিলাম; পুতুলের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কান্নায় সে বুক ভাসাত। | জসীম উদ্দিন |
| ৯৯. পার্শ্বে জ্বলিয়া মাটির প্রদীপ বাতাসে জমায় খেল; আঁধারের সাথে যুঝিয়া তাহার ফুরায়ে এসেছে তেল । | পাশে জ্বলা মাটির প্রদীপের শিখা বাতাসে দোল খায়; আঁধারের সাথে লড়তে লড়তে তার তেল প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। | জসীম উদ্দিন |
| ১০০. মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ রাশি, থাপড়েতে নিভিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি । | তার মিষ্টি মুখখানা ছিল হাসির প্রদীপের মতো; দারুণ অভাব এসে থাপড় মেরে সেই হাসি নিভিয়ে দিয়েছে। | জসীম উদ্দিন |
| ১০১. সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা । | সেই ঘরটিতে একলা বসে আমার মা এখনও ডাকছেন আমাকে। | জসীম উদ্দিন |
| ১০২. এ আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন, পাথরের টুকরোর মতন ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে বছর- তিনেক আগে কাক-ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে । | এই তো আমার ছোট ছেলে, যে এখন আর নেই; পাথরের টুকরোর মতো ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে—বছর তিনেক আগের এক কাকডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে। | শামসুর রাহমান |
আরও পড়ুন : বাংলা নতুন অনুগল্প – ” জীবনসঙ্গীনি” II বাংলা নতুন অনুগল্প – ” গোপন ক্রাশ”
- এই ১১ ধরণের মানুষ থেকে সর্বদা দূরে থাকুন
- বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণামূলক বাণী ও উপদেশ
- বিখ্যাত বাংলা প্রেমের কবিতা
- হৃদয়স্পর্শী একতরফা ভালোবাসার বাংলা কবিতা
সরকারি চাকরির পরীক্ষা প্রস্তুতি এখন ঘরে বসেই করুন www.siksakul.com এর সাহায্যে।
| ১০৩. তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা। | আজ আর তোমার মুখের দিকে তাকাতে পারি না, হে আমার বর্ণমালা, হে আমার দুঃখিনী বর্ণমালা। | শামসুর রাহমান |
| ১০৪. এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ কান নিয়েছে চিলে, চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে । কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে, আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে । | একজন নিল, আরেকজন নিল, আরে যাঃ! আমার কান নিয়ে গেছে চিলে! আমরা সবাই মিলে চিলের পিছে ছুটছি। কানের খোঁজে মাঠে মাঠে দৌড়াই, বিলে সাঁতার কাটি; আজ আকাশ থেকে ওই চিলটাকে ঢিল মেরে ফেলবই। | শামসুর রাহমান |
| ১০৫. স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন | হে স্বাধীনতা, তুমি আমার পিতার কোমল জায়নামাজের সেই প্রশস্ত ও উদার জমিনের মতো। | শামসুর রাহমান |
| ১০৬. ‘আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।’ | শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্টখানি আজ আমাদের প্রাণের পতাকায় পরিণত হয়েছে। | শামসুর রাহমান |
| ১০৭. বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল? | বলো তো, বাতাবি লেবুর গাছে কি ফুল ফুটেছে? আর আমের গাছে কি মুকুল এসেছে? | বেগম সুফিয়া কামাল |
| ১০৮. এইতো হেমন্ত দিন, দিল নব ফসল সম্ভার অঙ্গনে অঙ্গনে ভরি, এই রূপ আমার বাংলার | এই তো হেমন্তের দিন, নতুন ফসলের সম্ভার এনে ভরিয়ে দিয়েছে সব অঙ্গন; এই রূপই তো আমার বাংলার রূপ। | বেগম সুফিয়া কামাল |
| ১০৯. রইব না আর ঘরের কোণে বাহির হব দূর ভবনে । | আর ঘরের কোণে বন্দী হয়ে থাকব না; বেরিয়ে পড়ব দূরের পৃথিবীতে। | গোলাম মোস্তফা |
| ১১০. “মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।” | যে ব্যক্তির নিজের মাতৃভাষার প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা নেই, সে সত্যিকার অর্থে মানুষই নয়। | মীর মশাররফ হোসেন |
| ১১১. রোগকে ঘৃণা করা যায়, রোগীকে কেন | রোগকে তো ঘৃণা করা যায়, কিন্তু রোগীকে কেন ঘৃণা করবে? | হুমায়ুন আহমেদ |
| ১১২. মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায় | মানুষের মৃত্যু হলে তার দেহ পচে যায়; কিন্তু বেঁচে থাকলে সে বদলে যায়, পরিবর্তিত হয়। | মুনীর চৌধুরী |
| ১১৩. ‘যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা, যুদ্ধ মানেই আমার প্রতি তোমার অবহেলা | যুদ্ধ মানে তো শুধু শত্রুর সাথে খেলা নয়; যুদ্ধ মানেই হচ্ছে তোমার পক্ষ থেকে আমার প্রতি এই অবহেলা। | নির্মলেন্দু গুণ |




