বিখ্যাত নতুন বাংলা অনুগল্প 2026 – প্রতিদিন নিয়ম করে তোমায় খুঁজি l Bangla Anugolpo Pratidin Niyom Kore Tomay Khuji

By raateralo.com

Published on:

প্রতিদিন নিয়ম করে তোমায় খুঁজি: বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ও গভীর ধারার নাম অনুগল্প—যেখানে অল্প কথায় বলা হয় দীর্ঘ জীবনের কথা। এই ব্লগে আমরা তুলে ধরছি বাংলা অনুগল্প(Bangla Anugolpo), বিশেষ করে বিখ্যাত বাংলা অনুগল্প ও সমকালীন অনুভূতিপূর্ণ রচনা, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি ও নিঃসঙ্গতার সূক্ষ্ম অনুভব।
“প্রতিদিন নিয়ম করে তোমায় খুঁজি” শিরোনামের মতো অনুগল্পগুলো আমাদের নিয়ে যায় হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার গল্পে, যেখানে নীরবতা কথা বলে, আর স্মৃতি হয়ে ওঠে সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।

এখানে পাবেন প্রেমের বাংলা অনুগল্প, ভালোবাসার অনুগল্প, বিচ্ছেদ নিয়ে বাংলা অনুগল্প থেকে শুরু করে রোমান্টিক, বিষণ্ণআবেগঘন বাংলা অনুগল্প—সবই আধুনিক ও সমকালীন জীবনের ছায়ায় লেখা। নিঃসঙ্গতা, সম্পর্ক ভাঙন, অপূর্ণ ভালোবাসাহৃদয়ছোঁয়া অনুভূতি—এই সবকিছু মিলিয়েই আমাদের অনুগল্পের জগৎ।

যারা বাংলা সাহিত্য অনুগল্প পড়তে ভালোবাসেন, যারা খোঁজেন ছোট গল্প বাংলা অনুগল্প কিংবা নতুন লেখার স্বাদ—এই বাংলা অনুগল্প ব্লগ তাদের জন্যই। অনুগল্প এখানে শুধু গল্প নয়, এটি অনুভবের এক নিবিড় পাঠ, যেখানে প্রতিটি শব্দ পাঠকের নিজের জীবনের সাথেই কোথাও না কোথাও মিলে যায়।

Bangla Anugolpo l প্রতিদিন নিয়ম করে তোমায় খুঁজি

প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙার পর প্রথম যে কাজটা করি, সেটা আর চা বানানো নয়, জানালাও খুলি না—প্রথমে তোমায় খুঁজি।
খোঁজাটা খুব অদ্ভুত রকমের। তুমি কোথাও নেই, তবু খুঁজে যাই। যেমন মানুষ হারানো চাবি খোঁজে জেনেও যে চাবিটা আর ওই ঘরেই নেই।

বিছানার পাশের চেয়ারটায় চোখ পড়ে—একসময় যেখানে তুমি বসে মোবাইল স্ক্রল করতে করতে বলেছিলে,
“তুমি এত চুপ থাকো কেন?”
আমি সেদিন উত্তর দিতে পারিনি। আজও পারি না। শুধু চেয়ারটার দিকে তাকিয়ে থাকি, আর খুঁজে যাই তোমার বসে থাকা অবয়বটুকু।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁত মাজতে মাজতে হঠাৎ মনে হয়, পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। ঘুরে তাকাই—কেউ নেই। তবু বুকের ভেতর কেমন করে ওঠে। মানুষ কি এতটাই অভ্যাসে বাঁচে যে, শূন্যতাকেও উপস্থিত মনে হয়?

রাস্তায় বেরোই। প্রতিদিন একই পথ। চায়ের দোকান, বাসস্ট্যান্ড, পুরোনো বটগাছ। তোমার সঙ্গে একবার এই পথেই হেঁটেছিলাম। সেদিন তুমি বলেছিলে,
“এই শহরটা কেমন যেন ক্লান্ত।”
আমি তখন হাসি দিয়ে বলেছিলাম,
“তুমি থাকলে শহর বদলে যায়।”


আরো পড়ুন:

সরকারি চাকরির সেরা ঠিকানা www.siksakul.com

আজ শহরটা ঠিক আগের মতোই আছে। শুধু বদলে গেছি আমি। আমি এখন প্রতিটা ভিড়ের মধ্যে তোমার মুখ খুঁজি। অপরিচিত কারও হাঁটার ভঙ্গিতে, কারও চুলের বাঁকে, হঠাৎ শোনা কোনো হাসিতে। তারপর নিজেকেই বকা দিই—এভাবে মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না।

দুপুরে খাওয়ার টেবিলে বসে মনে পড়ে, তুমি ভাত ঠান্ডা হলে খেতে পারতে না। আমি ইচ্ছে করে ভাত একটু বেশি সময় চুলায় রাখি। যদি কোনোভাবে তুমি এসে বলো—
“এত গরম করছো কেন?”
কিন্তু কেউ বলে না। থালার ভাত শুধু ধোঁয়া ছাড়ে, আর আমি নিয়ম করে তোমায় খুঁজি প্লেটের ফাঁকা জায়গায়।

বিকেলে বই খুলে বসি। যে বইগুলো তুমি ছুঁয়ে দেখেছিলে, সেগুলোই বেশি পড়ি। তোমার আঙুলের ছোঁয়া যেন পাতার ভাঁজে আটকে আছে। শব্দ পড়তে পড়তে হঠাৎ থেমে যাই—এই লাইনটা তুমি পড়তে কেমন করে ভাবতে? এই চরিত্রটা তোমার ভালো লাগত কি না? বই পড়া এখন আর পড়া নয়, তোমার সঙ্গে নীরব কথোপকথন।

সন্ধ্যেবেলা আকাশটা সবচেয়ে বিপজ্জনক। আলো আর অন্ধকারের মাঝামাঝি সময়টা আমাকে দুর্বল করে দেয়। কারণ এই সময়েই তুমি ফোন করতে। খুব সাধারণ কথা—
“কি করছো?”
আজ ফোন বেজে ওঠে না। তবু প্রতিদিন ঠিক এই সময়টায় আমি মোবাইল হাতে নিই। অভ্যাসগুলো খুব নিয়মানুবর্তী হয়—মানুষের থেকেও বেশি।

রাতে শুতে যাওয়ার আগে ঘরটা একবার ভালো করে দেখি। জানি তুমি নেই। তবু খুঁজি। বালিশের পাশে, অন্ধকার কোণে, নিঃশ্বাসের শব্দে। মনে হয়, যদি খুব চুপ করে থাকি, হয়তো তোমার অনুপস্থিতির শব্দটা শুনতে পাবো।

আমি জানি, একদিন এই খোঁজার নিয়ম ভেঙে যাবে। মানুষ সবকিছুর সঙ্গেই মানিয়ে নিতে পারে—হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গেও। কিন্তু আজ নয়। আজ আমি এখনও তোমায় খুঁজি।

প্রতিদিন নিয়ম করে।

কারণ ভালোবাসা চলে গেলেও,
খোঁজার অভ্যাসটা থেকে যায়।


আরো পড়ুনঃ

সরকারি চাকরির পরীক্ষা প্রস্তুতি এখন ঘরে বসেই করুন www.siksakul.com এর সাহায্যে।

raateralo.com

Leave a Comment