Bengali Story About Love and Separation 2026 l প্রেম ও বিচ্ছেদ কেন্দ্রিক বাংলা অনুগল্প l Prem O Bichcheder Bangla Anugolpo

By Shishir Shil

Updated on:

Bengali Story About Love and Separation 2026

Bengali Story About Love and Separation 2026: ভালোবাসা সব সময় পূর্ণতা পায় না, আর বিচ্ছেদ সব সময় উচ্চস্বরে ঘটে না। অনেক গল্প থাকে যেখানে প্রেম আছে, কিন্তু মিলন নেই—আছে শুধু দূরত্ব, স্মৃতি আর না-বলা অনুভূতি। এই ব্লগে আমরা তুলে ধরেছি এমনই কিছু Story about love and separation, love and separation story এবং romantic separation story, যা হৃদয়ের গভীরে ছুঁয়ে যায়। এখানে থাকা প্রতিটি লেখা এক একটি emotional love storyheartbreaking love story, যেখানে ভালোবাসা ধীরে ধীরে বিচ্ছেদের রূপ নেয়।

এই সংগ্রহে আপনি পাবেন short story on love and separation, Bengali love and separation story, এবং বিশেষভাবে নির্বাচিত প্রেম ও বিচ্ছেদকেন্দ্রিক অনুগল্প। এগুলো শুধুই গল্প নয়—এগুলো প্রেম ও বিচ্ছেদের গল্প, বেদনাময় প্রেমের গল্প, অসমাপ্ত প্রেমের গল্প, আর না-বলা প্রেমের গল্প, যেখানে অনুভূতির গভীরতা শব্দের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। কোথাও আছে একতরফা প্রেমের গল্প, কোথাও সম্পর্ক ভাঙার গল্প, আবার কোথাও নিঃশব্দে বেড়ে ওঠা দূরত্বের গল্প

যারা খুঁজছেন হৃদয়ছোঁয়া অনুগল্প, আবেগঘন বাংলা গল্প, বা ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের গল্প, তাদের জন্য এই ব্লগ এক আবেগের ভাণ্ডার। এখানে রয়েছে প্রেমের কষ্টের গল্প, নিঃশব্দ বিচ্ছেদের গল্প, হারানো ভালোবাসার গল্প, এবং শেষ না হওয়া প্রেমের গল্প, যা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়। আধুনিক সম্পর্কের বাস্তবতা তুলে ধরা আধুনিক বাংলা প্রেমের গল্প, বাস্তবধর্মী প্রেমের গল্প, ও ছোট প্রেমের গল্প–এর পাশাপাশি থাকছে emotional Bengali short story, romantic Bengali short story, এবং sad love story in Bengali

এই ব্লগটি মূলত তাদের জন্য, যারা সম্পর্কের ভাঙন, ভালোবাসার হারানো অধ্যায়, এবং স্মৃতির ভার নিয়ে বেঁচে আছেন। যদি আপনি পড়তে ভালোবাসেন modern love separation story, relationship breakup story, বা love loss short story, তাহলে এই প্রেম-বিচ্ছেদের অনুগল্পগুলো আপনার হৃদয়ের খুব কাছের হয়ে উঠবে।

Bengali Story About Love and Separation 2026

ভাঙা প্রতিশ্রুতির দুপুর

দুপুরটা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণভাবে। জানালার বাইরে রোদ ছিল—ঠিক যেমন থাকে প্রতিদিন। অথচ সেদিন রোদের ভেতর একটা অস্বস্তি লুকিয়ে ছিল, যেন আলো নিজেই জানত আজ কিছু একটা ভাঙবে। ঘড়ির কাঁটা বারোটার কাছাকাছি এসে থমকে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে হচ্ছিল, সময়ও বুঝি এগোতে চাইছিল না।

টেবিলের ওপর রাখা মোবাইলটা বারবার উল্টে দেখছিলাম। স্ক্রিন জ্বলে উঠছে, আবার নিভে যাচ্ছে। কোনো নাম ভেসে উঠছে না। তবু অপেক্ষা থামাতে পারছিলাম না। অপেক্ষা আসলে মানুষের অভ্যাস হয়ে যায়—একসময় সেটা আর কারো জন্য থাকে না, নিজের জন্যই থেকে যায়।

আমরা কথা বলেছিলাম। খুব স্পষ্ট করে বলেছিলে,
“দুপুর বারোটা। আজ ঠিক আসব।”

তোমার কণ্ঠে কোনো দ্বিধা ছিল না। তাই আমি বিশ্বাস করেছিলাম। বিশ্বাস করা মানুষগুলো আসলে খুব বোকা হয় না, তারা শুধু নিজেদের সন্দেহ করতে শেখে না।

আমি সময় কাটানোর জন্য চা বানিয়েছিলাম। চা ঠান্ডা হয়ে গেল। আবার গরম করলাম। তবুও খেলাম না। রান্নাঘরের জানালার ধারে দাঁড়িয়ে দেখলাম রাস্তায় মানুষ চলছে—কেউ বাজার থেকে ফিরছে, কেউ স্কুলফেরত বাচ্চার হাত ধরে হাঁটছে। তাদের কারো জীবনে আজ কোনো “ভাঙা প্রতিশ্রুতি” নেই। শুধু আমার দুপুরটা ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।

একসময় মনে হলো, তুমি হয়তো আসছ। দরজার দিকে তাকালাম। কিন্তু দরজাটা নড়ল না। শব্দহীন দুপুরটা আরও ভারী হয়ে উঠল।

আমরা কত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম? খুব বড় কিছু নয়—
একসাথে চা খাওয়া,
একটা বিকেল নষ্ট করা,
কিছু না বলা কথা বলা।

এই ছোট ছোট প্রতিশ্রুতিগুলোই সবচেয়ে বেশি ভাঙে। কারণ এগুলো ভাঙার জন্য কোনো নাটক লাগে না। একটু দেরি, একটু নীরবতা, একটু এড়িয়ে যাওয়াই যথেষ্ট।

মোবাইলটা আবার হাতে নিলাম। শেষবারের মতো তোমার নামটা খুঁজে দেখলাম। আগের মেসেজগুলো পড়লাম—সবাই যেমন করে। “দেখা হবে”, “ভালো থেকো”, “এই সপ্তাহেই”—এগুলো এখন শব্দ মাত্র। কোনো দায়িত্ব নেই, কোনো ওজন নেই।

দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছিল। রোদটা ধীরে ধীরে নরম হয়ে এল। মনে হলো, তুমি আসবে না। এই না-আসাটার মধ্যে হঠাৎ কোনো চমক নেই। বরং একটা শান্ত স্বীকৃতি আছে—কিছু মানুষ কথা দেয় খুব সহজে, কারণ তারা জানে পালন করার প্রয়োজন পড়বে না।

আমি জানালাটা বন্ধ করলাম। ঘরে আলো কমে এল। মনে হলো, আজকের দুপুরটা আমি কোনোভাবে পার করে দিয়েছি। কিন্তু ভাঙা প্রতিশ্রুতির শব্দটা মাথার ভেতর থেকে যাচ্ছিল না। ওটা চিৎকার করে না, শুধু বসে থাকে—হাড়ের ভেতর।

সন্ধ্যার আগে বুঝতে পারলাম, আসলে তুমি কাউকে ঠকাওনি। প্রতিশ্রুতি ভাঙলে মানুষ ঠকে না, মানুষ শেখে। আমি শিখলাম—সব অপেক্ষা পূর্ণ হয় না, সব বলা কথা সত্যি হয় না, আর সব “দেখা হবে” মানে দেখা হয় না।

দুপুর শেষ হয়ে গেল।
কিন্তু ভাঙা প্রতিশ্রুতিটা থেকে গেল—
একটা নিঃশব্দ দুপুরের মতো,
যেটা আর কখনো সন্ধ্যায় পৌঁছায় না।


যে প্রেম বলা হয়নি

অফিস থেকে ফেরার সময় প্রতিদিন ট্রেন ধরত নীলয়। একই কামরায়, একই সময়ে। আর ঠিক সামনের সিটেই বসত মেয়েটা—নামটা সে কোনোদিন জানেনি। তবু ছয় মাসে অচেনা নামের মানুষও পরিচিত হয়ে যায়।

মেয়েটা জানালার পাশে বসত। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকত, যেন কোথাও পৌঁছাতে চায় না, শুধু পথটা দেখতে চায়। নীলয় ইচ্ছে করেই সামনের সিটটাই নিত। কথা বলার সুযোগ পায়নি কখনো, সাহসও হয়নি। শুধু মাঝে মাঝে চোখাচোখি হতো—দু’জনেই তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিত।

একদিন ট্রেন হঠাৎ থেমে গেল মাঝপথে। লাইন নষ্ট। যাত্রীরা বিরক্ত। মেয়েটা একটু ঘাবড়ে গিয়েছিল। নীলয় নিজের জলের বোতলটা বাড়িয়ে দিল।
“নিন,” শুধু এইটুকু বলেছিল সে।
মেয়েটা বোতলটা নিয়ে হালকা হাসল।
সেদিনই ওটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় কথা।

তারপর হঠাৎ করেই মেয়েটা আর এল না। একদিন, দু’দিন, সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। নীলয় প্রতিদিন সামনের সিটটার দিকে তাকিয়ে থাকত। খালি।

মাসখানেক পরে হঠাৎ আবার দেখা। তবে সেদিন মেয়েটা অন্য কামরায় উঠল। নীলয় ডাকতে চেয়েছিল, কিছু বলতে চেয়েছিল—
কিন্তু ট্রেন ছেড়ে দিল।

নীলয় জানে, কিছু প্রেম উচ্চারণ চায় না।
তারা শুধু চোখে চোখে জন্মায়,
আর না-বলা গল্প হয়ে
মনের ভেতর থেকে যায়।

তুমি নেই, তবু

সেদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই অভ্যাসের বশে ফোনটা হাতে তুলে নিয়েছিল অরূপ। তারপরই মনে পড়ল—আর কেউ নেই, যাকে “গুড মর্নিং” পাঠানো যায়। তবু ফোনটা কিছুক্ষণ হাতেই রইল। অভ্যাসগুলো চলে যায় না এত সহজে।

তন্বী চলে গেছে প্রায় এক বছর হলো। যাওয়ার সময় কোনো ঝগড়া হয়নি, বড় কোনো অভিযোগও না। শুধু বলেছিল, “আমাদের থেমে যাওয়াই বোধহয় ঠিক।” অরূপ কিছু বলেনি। কিছু মানুষ কথা না বলেই অনেক কিছু মেনে নেয়।

ঘরটা আজও তন্বীর পছন্দ মতো সাজানো। জানালার পাশে রাখা ছোট গাছটায় সে জল দিত প্রতিদিন। এখন অরূপ দেয়। গাছটা বেঁচে আছে। হয়তো সম্পর্কগুলোর মতো নয়।

অফিস থেকে ফেরার পথে প্রতিদিন সে ওই পুরনো চায়ের দোকানে দাঁড়ায়। একসময় দু’জনে একসঙ্গে চা খেত। এখন সে একাই খায়। দোকানদার আজও জিজ্ঞেস করে,
“দিদি আসছে না আজ?”
অরূপ শুধু মাথা নাড়ে।

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অরূপ প্রায়ই ভাবে—তন্বী কি সুখে আছে? হয়তো আছে। এই ভাবনাটুকুই তাকে একটু শান্তি দেয়।

তন্বী নেই, তবু অরূপ বাঁচে।
ভালোবাসে না ঠিক, কিন্তু ভালো থাকার চেষ্টা করে।
কারণ কিছু মানুষ চলে গেলেও,
তাদের স্মৃতি রেখে যায়—
যার সাথে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেওয়া যায়।

শেষ চিঠির খসড়া

ড্রয়ারের একেবারে নিচে, পুরনো কাগজের স্তূপের ভেতর চিঠিটা আজও পড়ে আছে। লেখা শেষ হয়নি। আসলে কোনোদিন শেষ করা যায়নি।

সেদিন কলম হাতে নিয়েছিল রুদ্র। অনেক কথা জমে ছিল। বলা হয়নি এমন কথা সবসময়ই বেশি ভারী হয়। প্রথম লাইনে লিখেছিল—
“তোমাকে অনেক কিছু বলার ছিল…”

তারপর আর এগোয়নি। কারণ সে জানত, যাকে চিঠি লেখা হচ্ছে, সে আর পড়বে না।

মেঘলা চলে গেছে তিন বছর হলো। যাওয়ার সময় কোনো চিঠি দেয়নি, কোনো অভিযোগও না। শুধু বলেছিল, “আমরা হয়তো ভুল সময়ে ঠিক মানুষকে পেয়েছিলাম।” রুদ্র তখন হেসেছিল। কিছু মানুষ দুঃখের সময়ও হাসে, যাতে ভেঙে না পড়ে।

চিঠিটা সে লিখতে বসেছিল মেঘলার জন্মদিনে। ভেবেছিল, সব লিখে ফেলবে—ভালোলাগা, অভিমান, না-বলা ভালোবাসা। কিন্তু প্রতিটা বাক্যেই সে থেমে গিয়েছিল। কারণ কিছু কথা লিখলে বাস্তব হয়ে যায়, আর রুদ্র বাস্তবটাকে তখনও মেনে নিতে পারেনি।

আজও মাঝে মাঝে সে চিঠিটা বের করে। পড়ে না, শুধু দেখে। খসড়া অবস্থাতেই চিঠিটা যেন বেশি সত্যি। শেষ করলে হয়তো অনুভূতিটাও শেষ হয়ে যেত।

রুদ্র জানে, এই চিঠি আর কখনো পাঠানো হবে না।
তবু সে রেখে দিয়েছে।
কারণ কিছু ভালোবাসা ঠিকানা পায় না—
তারা শুধু খসড়া হয়েই থেকে যায়।

অলিখিত নাম

ডায়েরির শেষ পাতাটা আজও ফাঁকা।
সব নাম লেখা আছে—বন্ধু, আত্মীয়, সহকর্মী।
শুধু একটি নাম নেই।

ইশিতা জানত, নামটা লিখলে আর মুছতে পারবে না। তাই সে লেখেনি। সম্পর্কটা যেমন ছিল—না বলা, না ছোঁয়া, না স্বীকার—নামটাও তেমনই রয়ে গেছে।

অফিসের লিফটে প্রায়ই দেখা হতো তাদের। একই ফ্লোরে নামত। দু’জনেই জানত, কথা বলা উচিত, তবু কেউ শুরু করত না। একদিন বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল লিফটে। কয়েক মিনিটের অন্ধকার। সেদিনই প্রথম কথা হয়। খুব সাধারণ কথা। অথচ সেই কয়েক মিনিটে ইশিতা বুঝেছিল, কিছু মানুষ অল্প সময়েই নিজের হয়ে যায়।

পরের সপ্তাহেই ছেলেটা অফিস ছেড়ে দিল। নতুন চাকরি, নতুন শহর। যাওয়ার আগে আর দেখা হয়নি। শুধু ইশিতার ডেস্কে একটি কাগজ রেখে গিয়েছিল—
একটা ফোন নম্বর, নাম ছাড়া।

ইশিতা কখনো ফোন করেনি। নম্বরটা আজও ডায়েরির ভাঁজে রাখা আছে। নাম লেখেনি সে। কারণ নাম লিখলেই গল্প শুরু হয়ে যেত, আর কিছু গল্প শুরু না হওয়াই ভালো।

ডায়েরির শেষ পাতাটা তাই আজও ফাঁকা।
ওটা শুধু একজন মানুষের জন্য,
যার নাম লেখা যায়নি,
কিন্তু যাকে ভুলে যাওয়াও যায়নি।

প্রেমের পরিত্যক্ত ঘর

ঘরটা বহুদিন বন্ধ ছিল। জানালার কাচে ধুলো জমে এমনভাবে বসেছে যে বাইরে তাকালেও কিছু স্পষ্ট দেখা যায় না। তবু অনির্বাণ আজ আবার এই ঘরটায় ঢুকেছে। চাবিটা ঘুরতেই যে শব্দটা হল, সেটা যেন অনেকদিনের নীরবতাকে ভেঙে দিল।

এই ঘরটা একসময় তাদের ছিল। কাগজে-কলমে নয়, কিন্তু অনুভবে। রিনির সাথে প্রথম এখানে এসেছিল অনির্বাণ—ভাড়া দেখতে। তখন ঘরটা ফাঁকা ছিল, তবু দু’জনেই কল্পনা করেছিল কোথায় আলনা থাকবে, কোন দেয়ালে ছবি টাঙানো হবে। রিনি বলেছিল, “এই জানালার ধারে একটা ছোট টেবিল রাখব, সকালে চা খাব।” অনির্বাণ হেসে বলেছিল, “তাহলে আমাকে চা বানাতে শিখতেই হবে।”

সবকিছুই পরিকল্পনা ছিল। শুধু ভবিষ্যৎটা ছিল না।

ঘরের ভেতর ঢুকে অনির্বাণ ধীরে ধীরে চারপাশটা দেখল। সেই পুরনো সোফাটা এখনো আছে। এক কোণে রাখা আলমারিটা খোলা, ভিতরে কিছু পুরনো কাগজ। রিনির হাতের লেখা। পড়া যায় না ঠিকমতো, তবু অক্ষরগুলো দেখে বুকটা কেমন করে উঠল।

রিনি চলে গিয়েছিল হঠাৎ। বড় কোনো ঝগড়া হয়নি। বরং ঝগড়া না হওয়াটাই হয়তো সবচেয়ে বড় কারণ ছিল। সম্পর্কটা একসময় এমন হয়ে গিয়েছিল, যেখানে দু’জনেই ক্লান্ত, কিন্তু কেউই সেটা স্বীকার করতে চায়নি।

“আমরা কি একটু থামতে পারি?”—রিনি সেদিন বলেছিল।
অনির্বাণ কিছু বলেনি। সে ভেবেছিল, থামা মানেই আবার চলা। কিন্তু কিছু থামা মানে শেষ।

ঘরের জানালাটা খুলে দিল সে। বাতাস ঢুকল। পর্দাটা নড়ে উঠল। ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে একদিন রিনি কেঁদেছিল। কারণ অনির্বাণ বুঝতে দেরি করেছিল, যে কিছু প্রশ্নের উত্তর নীরবতা হতে পারে না।

কিচেনটা ছোট, কিন্তু রিনি খুব ভালোবাসত। বলত, “বড় বাড়ি না হোক, ভালোবাসাটা বড় হলেই চলবে।” অনির্বাণ তখন বিশ্বাস করেছিল। এখন বুঝতে পারে, ভালোবাসাও যত্ন না পেলে ছোট হয়ে যায়।

ডাইনিং টেবিলের নিচে আজও পড়ে আছে একটি চাবির রিং। রিনির। হয়তো সে খুঁজে পায়নি, হয়তো ইচ্ছে করেই রেখে গিয়েছিল। অনির্বাণ সেটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। কিছু জিনিস ফেলে যাওয়া মানে ভুলে যাওয়া নয়, কখনো কখনো সেটাই থেকে যাওয়ার শেষ উপায়।

এই ঘরটা পরিত্যক্ত নয়। আসলে পরিত্যক্ত হয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ। দেয়ালগুলো আজও দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু স্বপ্নগুলো নেই। তবু অনির্বাণ বুঝতে পারে, এই ঘর ছেড়ে যেতে তার সময় লাগবে।

বেরোনোর আগে সে শেষবারের মতো ঘরটার দিকে তাকাল।
ঘরটা ফাঁকা, কিন্তু শূন্য নয়।
কারণ কিছু প্রেম চলে যায়,
তবু তাদের রেখে যাওয়া ঘরগুলো
আজীবন ভেতরে থেকে যায়।

একটি অসম্পূর্ণ বিদায়

বিদায়টা ঠিক সেভাবে হয়নি, যেমনটা হওয়ার কথা ছিল। কোনো স্টেশনে দাঁড়িয়ে হাত নাড়া, কিংবা চোখের জলে ভেজা শেষ আলিঙ্গন—কিছুই নয়। সবকিছু এত হঠাৎ ঘটেছিল যে, কেউ বুঝে ওঠার আগেই গল্পটা থেমে গেল।

নীহার আর শায়রার সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণভাবে। একই অফিস, একই কফি মেশিন, আর দুপুরের বিরক্তি ভাগ করে নেওয়া। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে এমন এক নির্ভরতা, যেটার নাম তারা দিতে সাহস পায়নি। নীহার ভাবত, সময় হলে বলবে। শায়রা ভেবেছিল, না বলাটাই হয়তো ভালো।

একদিন শায়রা জানাল—সে অন্য শহরে চলে যাচ্ছে। ট্রান্সফার। খুব সাধারণ একটা কারণ, খুব অল্প সময়ের নোটিস। নীহার সেদিন শুধু বলেছিল, “ভালো থেকো।” বলার মতো আরও অনেক কিছু ছিল, কিন্তু শব্দগুলো আটকে গিয়েছিল।

শেষ দেখা হয়েছিল অফিসের লিফটে। দরজা বন্ধ হচ্ছিল, শায়রা ভেতরে, নীহার বাইরে। কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা। শায়রা কিছু বলতে চেয়েছিল, হয়তো নীহারও। কিন্তু লিফট নেমে গেল। কথাগুলো রয়ে গেল মাঝখানে।

এরপর যোগাযোগ কমতে কমতে বন্ধ হয়ে গেল। জীবন তার মতোই চলল। নতুন মানুষ, নতুন ব্যস্ততা। তবু কিছু সন্ধ্যায় নীহার হঠাৎ করে থেমে যেত। ভাবত, যদি সেদিন একটু বেশি সাহস করত?

শায়রা অন্য শহরে গিয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে শিখল। কিন্তু মাঝে মাঝে কোনো ক্যাফেতে বসে কফির কাপে তাকিয়ে থাকত। ভাবত, কিছু বিদায় সম্পূর্ণ না হলেই হয়তো বেশি কষ্ট দেয়।

তাদের গল্পটা শেষ হয়নি ঠিক করে। শুরুটাও হয়নি ঠিক করে। তাই হয়তো বিদায়টাও অসম্পূর্ণ থেকে গেল।

কিছু মানুষ চলে যায়,
কিন্তু বিদায়টা রেখে যায়—
যেটা আজীবন শেষ হয় না।

যেখানে আমরা থেমে গিয়েছিলাম

রেললাইনটার পাশে দাঁড়ালেই আজও সময়টা থেমে যায়। অনিকেতের মনে হয়, এখানেই তারা থেমে গিয়েছিল—কথা, স্বপ্ন, আর দু’জনের মাঝখানের অদ্ভুত নীরবতা।

এই স্টেশনটা খুব ছোট। ট্রেন থামে না এখন আর। কিন্তু কলেজের সময়ে এখানেই নেমে যেত তারা দু’জন—অনিকেত আর মৈত্রী। ক্লাস শেষ করে হাঁটত, নদীর ধারে বসত, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলত। তখন ভবিষ্যৎটা খুব বড় মনে হতো, আর সময়টা খুব ধীর।

মৈত্রী বলত, “সবকিছু এত তাড়াতাড়ি বদলে যায় কেন?”
অনিকেত হেসে বলত, “আমরা বদলাব না।”

কিন্তু মানুষ কথার চেয়ে সময়ের ওপর কম ভরসা রাখতে শেখে দেরিতে।

চাকরি পাওয়ার পর অনিকেত শহরে চলে গেল। মৈত্রী থেকে গেল শহরতলিতেই। প্রথমে ফোন, তারপর মেসেজ, তারপর শুধু “ভালো থেকো”-র অভ্যাস। কোনো ঝগড়া হয়নি। ধীরে ধীরে তারা থেমে গিয়েছিল।

আজ অনেক বছর পরে অনিকেত আবার এসেছে। স্টেশনটা আগের মতোই নিঃসঙ্গ। বেঞ্চটা ভাঙা, টিকিটঘর বন্ধ। সে বসে পড়ে। ঠিক এই জায়গাতেই মৈত্রী একদিন বলেছিল, “আমরা যদি থেমে যাই?”
অনিকেত তখন কথাটার মানে বুঝতে পারেনি।

হঠাৎ পেছন থেকে পরিচিত কণ্ঠ।
“এখনও আসে তুমি?”

মৈত্রী। চোখে সেই পুরনো শান্ত ভাব, কিন্তু মুখে সময়ের রেখা। তারা দু’জনেই দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক কথা জমে আছে, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে কেউ জানে না।

মৈত্রী বলে, “আমরা বোধহয় এখানেই থেমে গিয়েছিলাম।”
অনিকেত মাথা নাড়ে। বলে না, এখনো থেমে আছি কিনা।

একটা ট্রেন দূরে হর্ন বাজায়, থামে না। সময় এগিয়ে যায়।
তারা দু’জনেই বুঝে যায়—
কিছু গল্প শেষ হয় না,
তারা শুধু থেমে থাকে
একটা জায়গায়,
একটা সময়ে।


আরও পড়ুন : বাংলা নতুন অনুগল্প – ” জীবনসঙ্গীনি” II বাংলা নতুন অনুগল্প – ” গোপন ক্রাশ”

সরকারি চাকরির পরীক্ষা প্রস্তুতি এখন ঘরে বসেই করুন www.siksakul.com এর সাহায্যে।

Bengali love and separation story Bengali Story About Love and Separation emotional Bengali short story emotional love story heartbreaking love story love and separation story love loss short story modern love separation story Prem O Bichcheder Bangla Anugolpo relationship breakup story romantic Bengali short story romantic separation story sad love story in Bengali short story on love and separation Story about love and separation অসমাপ্ত প্রেমের গল্প আধুনিক বাংলা প্রেমের গল্প আবেগঘন বাংলা গল্প একতরফা প্রেমের গল্প ছোট প্রেমের গল্প দূরত্বের গল্প না-বলা প্রেমের গল্প নিঃশব্দ বিচ্ছেদের গল্প প্রেম ও বিচ্ছেদ কেন্দ্রিক বাংলা অনুগল্প প্রেম ও বিচ্ছেদকেন্দ্রিক অনুগল্প প্রেম ও বিচ্ছেদের গল্প প্রেমের কষ্টের গল্প প্রেমের বিচ্ছেদ গল্প বাংলা অনুগল্প প্রেম বিচ্ছেদ বাস্তবধর্মী প্রেমের গল্প বেদনাময় প্রেমের গল্প ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের গল্প শেষ না হওয়া প্রেমের গল্প সম্পর্ক ভাঙার গল্প স্মৃতি ও বিচ্ছেদের গল্প হারানো ভালোবাসার গল্প হৃদয়ছোঁয়া অনুগল্প

Shishir Shil

Leave a Comment